গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ছয়জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৭২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছেন ৯৫ জন। সব মিলিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বয়সভিত্তিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, যদিও শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকে হামজনিত মৃত্যু হিসেবেই গণ্য করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৬১৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে আরও ৭৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৫ হাজার ২৭২ জন।
হাসপাতালে ভর্তির তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




