আগামী সোমবার রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জমা পড়েছে এবং সোমবার থেকে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। অধিকারের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে ৬১ জন নিহতের উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে ৫৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিবিষয়ক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসের সরকারের সময় এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন দুটি আরও যাচাই-বাছাই শেষে ক্যাবিনেট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী ক্যাবিনেটে এ দুটি আইন চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে সংসদে তোলা হবে।

ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় না রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, যত বড় রাজনৈতিক মামলাই হোক না কেন, সেটা তাদের কমিটমেন্টের জায়গা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় শুধু সুপারিশ করতে পারে, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা তার হাতে নেই। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন না পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী গুমকে মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা প্রশাসনের সময় গত ১৫ বছরে আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অমানবিক ও দানবীয় করে তোলা হয়েছিল। সে শাসনামলে কৌশলগত, নির্বাহী ও কার্যকরী স্তরে তিন স্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে গুম সংঘটিত হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগ দিতেও বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিচারপতি মইনুল ইসলাম।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বিএনপি যাতে আবার আওয়ামী লীগে পরিণত না হয়, সে জন্য অপরাধীদের বিচার করতে হবে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণকে আওয়াজ তুলতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হলো তারা যেন ভুলে না যায় যে ১৭ বছর তাঁরাও ভুক্তভোগী ছিলেন।

পরামর্শ সভাটির আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অধিকার। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন অধিকারের সমন্বয়ক কোরবান আলী।