ভারতের সংসদ ভবনের দিকে শিক্ষার্থীদের অভিযান ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যে ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহার করেছিলেন, তা এখন নিশ্চিত হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) এক জওয়ান মোট সাতটি পেলেট নিক্ষেপ করেছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটি আন্দোলনকারীদের শরীরে আঘাত হানে এবং দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এলেও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। কংগ্রেসের সাংসদ রাহুল গান্ধী ইতোমধ্যে আহত এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং দাবি করেছেন, আরও অনেকে পেলেটের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আহতদের ছবি ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি জানতে চেয়েছেন, কার নির্দেশে এই গুলি চালানো হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই কি সেই নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা যারা নির্বিচারে লাঠিপেটা চালিয়েছেন—তারা পুলিশ নাকি স্বেচ্ছাসেবী—সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধী রোববার সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। এর আগে বিরোধীরা দাবি জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। পেলেট বিতর্ক শুরু হলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, তারা পেলেটগান ব্যবহার করেনি। তখন সিআরপিএফ র্যাফকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এখন জানা গেছে, র্যাফের এক জওয়ানই ওই গুলি চালিয়েছেন। আন্দোলন শেষে শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের ওপর হামলার খবর আসছে। দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনাকারী পোস্ট চিহ্নিত করছে এবং সেগুলো সরানোর জন্য একাধিক প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সেই দাবি মেনে নিলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখনো তেমন কোনো সরকারি নির্দেশ তারা পাননি। বিভিন্ন রাজ্যে দিল্লিফেরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর আসছে। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'হিন্দু বীর সেনা'র এক কর্মী দুই ছাত্রকে চড় মারার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে আটটি এফআইআর থাকলেও বর্তমান ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—কারণ কেউ অভিযোগ করেনি। আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, যন্তর মন্তরে বিনামূল্যে খাবার বিতরণের পর পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তাকে আটক করে চোখ বন্ধ করে মুসৌরি নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ বলছে, তারা এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
দিল্লিতে শিক্ষার্থী অভিযানে পেলেট গুলির ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন রাহুল
সংসদ অভিযান চলাকালে র্যাফ জওয়ানের ছররা গুলিতে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওপর বর্তাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি চিঠি দিয়ে নির্দেশদাতার নাম জানতে চেয়েছেন।




