ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান। রোববার তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার জন্য কিছুটা সময় ও সুযোগ করে দিচ্ছেন।'

মার্কিন হামলা বন্ধের এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে তেহরানও এই অঞ্চলে তার 'প্রতিশোধমূলক' অভিযান স্থগিত রেখেছে। টানা দুই রাত কোনো ধরনের আক্রমণ না ঘটায় যুদ্ধাবস্থায় একটি সাময়িক বিরতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন মার্কিন হামলা এবং তার বিপরীতে ইরানের পাল্টা আঘাতে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংঘাতের বিস্তার ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের সীমিত মজুত দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা হামলা বন্ধের কারণ হতে পারে। তবে রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টজ এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এনবিসিকে তিনি বলেন, 'আমি এমনটা বলব না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রাখছেন।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'এই অভিযান কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছই মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে রয়েছে।'

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও এর আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে তৈরি কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। সেগুলোতে ইরানের জাহাজ ও খারগ দ্বীপে বোমা হামলা চালানো মার্কিন যুদ্ধ বিমানের দৃশ্য দেখা যায়। অপর এক ঘোষণায় ট্রাম্প জব্দ করা ইরানি সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলেন, যা নিয়ে তেহরান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ইতোমধ্যে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরান গত শুক্র ও শনিবার কয়েক দফা কারিগরি বৈঠক করেছে বলে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে উসকে দেয়। গত জুনের সমঝোতা স্মারকে সামরিক অভিযান বন্ধ, প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির কথা বলা হলেও, ১৩ জুলাই একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ফের আক্রমণ শুরু করে এবং ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ জারি করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যাতে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও মার্কিন হামলায় দেশটিতে প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।