ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রোববার ব্রাজিলের সাও পাওলোতে এক সমাবেশে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বোলসোনারোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনে মিলেই এই মন্তব্য করেন। তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নাম সরাসরি না নিয়ে তাকে ‘চোর’ এবং ‘মাফপ্রাপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপশি তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ফ্লাভিও বোলসোনারোই ‘লুলাকে ঠেকাতে’ সক্ষম।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিলের কুটনীতিকরা জানান, আর্জেন্টিনার নেতা ব্রাজিলের সরকার, জনগণ এবং গণতন্ত্রকে অপমানরিত করেছেন। ঘটনার জের ধরে ব্রাজিল আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূ জুলিও বিটেলিকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়। ধারণা করা হচ্ছেন, তিনি রবিবার থেকে সোমবারের মধ্যে ব্রাজিলে ফিরে আসবেন।
পরে দিন, লুলা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা দেশে কারো নাক গলানো বরদাস্ত করি না।” তিনি আরও বলেন, তিনি “কারো হস্তক্ষেপ ছাড়াই” নতৃত্ব দিয়ে যেতে থাকবেন।
মিলেই তার বক্তৃতায় ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসকেও আক্রমন করে তাকে ‘টেকু আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেন। এই বিচারপতিই জাইর বোলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার মামলার রায় দিয়েছিলেন এবং অতীতে গৃহবন্দী অবস্থায় তার সঙ্গে মিলের সাক্ষাতের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ফ্লাভিও বোলারোনারো হলেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে। গত বছর জাইর বোলসোনারোকে ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, ২০১৮ সালে বড় ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ কাণ্ডে লুলাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে দেড় বছরের কিছু বেশি সময় পর তিনি মুক্তি পান। ২০২১ সালে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা বাতিল করে দেয়।




