মহানবী (সা.)-এর প্রতি রহমত কামনার দোয়া দরুদ শরিফ ইসলামী জীবনচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহ নিজে এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীজির প্রতি দরুদ পাঠান; মুমিনদেরও তাই করতে বলা হয়েছে (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)। এই আমলের মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে।

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার প্রতি একবার দরুদ পাঠায়, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাজিল করেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)। নিয়মিত এই আমল করলে মানুষের পাপ মোচন হয় এবং জীবনে প্রশান্তি আসে বলে হাদিসের আলোকে জানা যায়।

সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.) একবার দরুদ পাঠের জন্য কত সময় নির্ধারণ করবেন তা জানতে চাইলে রাসুল (সা.) তাঁকে নিজ ইচ্ছানুযায়ী সময় বেছে নেওয়ার অনুমতি দেন। এক-চতুর্থাংশ, অর্ধেক ও দুই-তৃতীয়াংশ সময়ের কথা বলার পরও নবীজি বলেন, ‘তুমি যতটুকু চাও, তবে এর চেয়ে বাড়াতে পারলে তোমারই কল্যাণ।’ শেষ পর্যন্ত উবাই পুরো সময় দরুদ পাঠে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তাহলে এটি তোমার চিন্তা ও কষ্টের অবসানের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)।

পরকালীন জীবনের জন্যও এই আমলের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে, যে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪)। বিশেষ করে জুমার দিন বেশি করে দরুদ পাঠের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩১)। যারা নবীজির নাম শুনেও দরুদ পড়ে না, তাদের তিনি ‘কৃপণ’ বলে অভিহিত করেছেন (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ২০৪২)।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজির ইন্তেকালের পরেও তাঁর কাছে দরুদ পৌঁছানো হয়। কারণ আল্লাহ নবীদের দেহ মাটিতে গ্রাস করতে নিষেধ করেছেন; তাঁরা কবরে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৩৭)। তাই মুমিনদের উচিত নিয়মিত ও অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, মানসিক শান্তি ও পরকালীন সাফল্য লাভের পথ সুগম করা।