বর্ষার এই সময়ে চারা রোপণের জন্য ভালো মানের গাছের সন্ধানে অনেকেই ছুটছেন বিভিন্ন নার্সারির দিকে। সে চাহিদা পূরণের একটি বড় আয়োজন হলো জাতীয় বৃক্ষমেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বসেছে এই মেলা। গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন নেই।
মেলা প্রাঙ্গণে মোট ১২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রধান ফটক দিয়ে সরাসরি মূল সড়কে যাওয়া না গেলেও বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশ অথবা মেলার শেষ প্রান্ত দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে গাছে গাছে ঝুলে থাকা রঙিন ফলের সমারোহ। বিশেষ করে আমের মধ্যে দেখা মিলছে চিয়াংমাই, কিং আব চাকাপাত, জাপানের মিয়াজাকি ও আমেরিকান রেড পালমারের মতো বিদেশি জাতের। সবুজ রঙের বিশাল আকৃতির ব্রুনাই কিং আমের ওজন প্রায় পাঁচ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
জাতীয় ফল কাঁঠালের পাশাপাশি রয়েছে আঠাবিহীন বারোমাসি ভিয়েতনামের কাঁঠাল। এ ছাড়া রামবুটান, লটকন, ডালিম, জাম, অ্যাভাকাডো, মিসরীয় ডুমুর, কামরাঙা, সফেদা, ডেউয়া, বিলাতি গাব, আতা, সরিফা, লেবু, বাতাবিলেবু ও আমলকীসহ নানা ফলদ গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। ফুলপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে কম ভাণ্ডার। গোলাপ, জবা, জারবেরা, অলকানন্দা, কাঠগোলাপ, বাগানবিলাসের পাশাপাশি আছে পদ্ম ও শাপলার মতো জলজ ফুল। মাটি ছাড়াই বাতাসে ঝুলে থাকা অর্কিডও মেলায় স্থান পেয়েছে। ক্যাকটাসের মধ্যে কাঁটায় ঘেরা সবুজ ও রঙিন মুকুট মাথার প্রজাতি দুটোই পাওয়া যাচ্ছে।
শুধু গাছ নয়, বাগানের যাবতীয় সরঞ্জামও মিলছে এখানে। জৈব সার হিসেবে কোকো পিট, পার্লাইট ও ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার রাখা হয়েছে। বর্ষায় টবে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য বিশেষ নিষ্কাশনযুক্ত সিরামিক, প্লাস্টিক ও মাটির টবের সমাহার রয়েছে। কাস্তে, নিড়ানি, শাবল, গ্লাভস ও পানি দেওয়ার ঝাঁজরির মতো সরঞ্জামও আছে। বিনামূল্যে বাগানবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
একই মাঠে বৃক্ষমেলার পাশাপাশি ৬০টি স্টল নিয়ে বসেছে পরিবেশ মেলা। এই সাত দিনের আয়োজন চলবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি কৃষিবিষয়ক পরামর্শ কেন্দ্রও রয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মেলা ঘুরে ক্লান্ত হলে সেখানে বসে কফি খাওয়ারও ব্যবস্থা আছে।



