রাজনীতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করার আগে থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগন’ প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলেছে, মুক্তির মাত্র দুই দিনেই বৈশ্বিক বক্স অফিস থেকে তুলে নিয়েছে ১১২.৫০ কোটি রুপি। তবে, শক্তিশালী সূচনা সত্ত্বেও ছবিটি অভিনেতার আগের দুই সুপারহিট ‘লিও’ (২০২৩) ও ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ (২০২৪)-এর গতি ধরে রাখতে পারেনি।

এইচ বিনোথ পরিচালিত অ্যাকশন-ঘরানার ছবিটি গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। স্যাকনিলকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনে ভারতের বাজার থেকে ছবিটির নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৩.৮৫ কোটি রুপি। ভারতের গ্রস কালেকশন হয়েছে ৭৫ কোটি রুপি, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যোগ হয়েছে আরও ৩৭.৫০ কোটি রুপি। প্রারম্ভিক দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে ৪২.৭০ কোটি রুপি নেট আয় করলেও, দ্বিতীয় দিনে সেই আয়ের পরিমাণ নেমে আসে ২১.১৫ কোটি রুপিতে, যা দর্শক টানের একটি বড় পতনই নির্দেশ করে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতির হারও কমে গেছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে। প্রথম দিনে গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪১.৬ শতাংশ, যা পরের দিন হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.৫ শতাংশে। বিজয়ের আগের দুটি ছবির রেকর্ড ‘জন নায়াগন’কে অনেক পিছনে ফেলেছে। ‘দ্য গ্রrestest অব অল টাইম’ প্রথম দুই দিনে ভারতে ৬৯.৫০ কোটি রুপি নেট আয় করেছিল, অন্যদিকে ‘লিও’ সেই একই সময় পর্বে তুলে এনেছিল ৮৯.০৫ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী মোট আয়ের বিচারেও ব্যবধানে পরিষ্কার। ‘গোট’-এর দুই দিনের আয় ছিল ১৫২.৯৪ কোটি রুপি, আর ‘লিও’ আয় করেছিল বিশাল ২১০.২১ কোটি রুপি।

আঞ্চলিক ভাগে তামিলনাড়ুই ছবিটির প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে। দুই দিনে একা এই রাজ্য থেকে আসে ৪১ কোটি রুপি। প্রথম দিনে ২৬ কোটি ও দ্বিতীয় দিনে ১৫ কোটি রুপি আয় নথিভুক্ত হয়েছে। তালিকার পরেই রয়েছে কর্ণাটক, যেখানে দুই দিনের আয় ১৪.৪৭ কোটি রুপি। কেরালা থেকে ৭.৫০ কোটি, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা থেকে ৬.২৫ কোটি এবং ভারতের বাকি অংশ থেকে ৫.৭৮ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে ছবিটি।

‘জন নায়াগন’-এর গল্পে বিজয়কে দেখা গেছে সাবেক পুলিশ অফিসার ভেত্রি কন্ডন-এর ভূমিকায়, যে তার দত্তক কন্যা ভিজিকে (মামিথা বাইজু) সেনাবাহিনীর যোগ্য করে তোলার সংকল্প পূরণের লড়াই চালিয়ে যান। কাহিনির প্রধান প্রতিপক্ষ জন হিমলারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের ববি দেওল। তবে ছবিটি সমালোচকদের দ্বিধা-বিভক্ত প্রতিক্রিয়াই পেয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ২ তারকা দিয়ে মন্তব্য করেছে যে, বিরতির পর এর গল্প নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপ্রয়োজনীয় মেলোড্রামায় পর্যবসিত হয়েছে। মিশ্র সমালোচনা সত্ত্বেও, ‘জন নায়াগন’ বাণিজ্যের দিক থেকে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। আগামী সাপ্তাহিক ছুটিতে ছবিটি কীভাবে দর্শক টানতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ের বিদায়ী চলচ্চিত্র হিসেবে এর আবেদন কতটা টিকে থাকে, তা এখন দেখার বিষয়।