পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার সারা দেশে সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে সব মাঠপর্যায়ের ইউনিটকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এদিন এক জরুরি বার্তায় এই সতর্কতা পাঠানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো যানবাহন থামানোর প্রয়োজন হলে তা নিরাপদ স্থানে পার্কিং করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, থানা, পুলিশ লাইনস বা অফিস কম্পাউন্ডের মতো নির্ধারিত স্থানে রাখা সরকারি যানবাহনগুলোর সুরক্ষা বর্ধিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব স্থাপনায় নিয়মিত টহল, বাড়তি নজরদানি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ ভাবে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরণের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে কয়েকটি ঘটনায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভিতরে লুকানো বোমা উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে একটি ছাতা বেরিয়ে থাকা বস্তা পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় একটি সন্দেহজনক ব্যাগ এবং একই সময় ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচতলায় পিলারের পাশে আরেকটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের খবর দেওয়া হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, ওই ব্যাগ বা বস্তায় কোনো বিস্ফোরক ছিল না। এসব ঘটনা বিবেচনায় রেখেই সর্বশেষ এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক ও মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ মাঝে মাঝেই বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। এই বার্তাও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। পুলিশকে সক্রিয় ও সতর্ক রাখার তাগিদ থেকেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই নির্দেশনাগুলোতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।




