রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব 'জুলাই জাগরণ সিজন-২'। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজনে শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের স্বপ্ন, ভীতি, সাহস ও আত্মত্যাগের কাহিনি বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের সাহায্যে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহীদ আনাসের মা শনিবার বিকেলে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন, যার সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখানে শিশুদের জন্য আলাদা 'কিডস জোন' রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতির চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, 'একটি বড় অপতৎপরতা হলো মুক্তিযুদ্ধের সাথে গণ-অভ্যুত্থানের মুখোমুখি অবস্থান তৈরির কৌশল। এ ধরণের বিভাজন সৃষ্টির রাজনীতি দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে না।' ভবিষ্যতে এ রকম কোনো ষড়যন্ত্র দেখা দিলে তা প্রতিহত করার ডাক দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ স্বাগত ভাষণে বলেন, জেনারেশন জি ও জেনারেশন আলফা—উভয় প্রজন্মের শিশু-কিশোরই আন্দোলনে বিভিন্নভাবে সক্রিয় অংশ নিয়েছে, যা সমগ্র দেশ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে সেই ভূমিকাকে জনসমুখে উপস্থাপন করাই তাঁদের প্রয়াস।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তাঁর বক্তৃতায় জুলাইকে নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে না দেখে বরং একটি সুগভীর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, শতবর্ষের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ইতিহাস এখন পুনর্লিখন ও পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে, যেখানে সাহিত্য, ভাষা ও কাঠামোগত সবকিছুই নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ নানা মহলের পক্ষ থেকে জনগণ যাতে জুলাইয়ের চেতনা ভুলে যায়, সেই কুচক্রী প্রয়াস চলছে। কিন্তু জুলাইকে কখনও বিস্মৃত হতে দেওয়া হবে না, এবং সে ধরনের কোনো ফন্দি ফলপ্রসূ হবে না।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আয়োজনের সভাপতির ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, এই উৎসবের মূলে রয়েছে তথ্য ও উপাত্তের নিরিখে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস নির্মাণ এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। গবেষণা, কথাসাহিত্য, উপন্যাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এতে ছাড়াও আরও সংসদ সদস্য, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে রচিত 'রক্তে ভেজা সবুজ ডানা', 'এক মুঠো রোদ', 'আমার জুলাই', 'জুলাই বাংলা বর্ণমালা', 'জুলাই স্মৃতি (দ্বিতীয় খণ্ড)' এবং 'জুলাই রেভোলিউশন ওয়ালস'-সহ মোট আটটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।




