পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে মাছ ধরার আনন্দ ভ্রমণ শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রূপ নিল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়। সাঁতার না জানা পাঁচ বছরের এক শিশু হাওরের প্রবল স্রোতে তলিয়ে মারা গেছে। শনিবার (১ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের পেছনের ধারাম হাওরে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম শরিফ হোসেন। সে ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, শরিফ তার চেয়ে কিছুটা বড় দুই সহোদর মাহিদ হোসেন (৭) ও আরিফ হোসেনের (৮) সঙ্গে হাওরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। তিন ভাই ছয়টি জাল নেন। মাহিদ ও আরিফ সাঁতার জানলেও শরিফ সাঁতার জানতে পারত না।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, আরিফ ও মাহিদ হাওরে জাল ফেলে মাছ ধরছিল এবং মাছ রাখার পাত্র হাতে তাদের পেছনে পেছনে পানি ভেতর দিয়ে হাঁটছিল শরিফ। এ অবস্থায় হঠাৎ স্রোতের তোড়ে কোমলমতি ছোট ভাইটিকে তলিয়ে যায়। বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে মাহিদ কোনো রকমে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি আঁকড়ে ধরে প্রাণরক্ষা করে, আর আরিফ দৌঁড়ে বাড়ি গিয়ে পুরো ঘটনা জানায়।
খবর পাওয়ার পরপরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা দলবল নিয়ে হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শিশুটির চাচা আজিমুল হক জানান, বেলা সাড়ে তিনটা থেকে শুরু করে জাল ফেলা ও পানিতে বারবার ডুব দিয়ে তারা ছেলেটিকে খুঁজতে থাকেন। একটানা প্রচেষ্টার পর অবশেষে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে স্থানীয় এক দক্ষ ডুবুরির প্রচেষ্টায় পানির নিচ থেকে মৃতাবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ধর্মপাশা থানার তদন্ত পরিদর্শক মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তারা শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবরটিই পায়। অন্যদিকে, কৃষক ফরিদ মিয়া ছেলের এমন অকাল মৃত্যুতে শোকে মূহ্যমান। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যদি আগে জানতে পারতেন যে এমন কিছু হবে, তাহলে কখনোই মাছ ধরতে যেতে দিতেন না।




