শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মাছটি সার্জন ফিশ পরিবারের অ্যাকানথুরিডি (Acanthuridae) গোত্রের অন্তর্গত। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস (Acanthurus lineatus)। দেহের ওপরের অংশে কালো কিনারাযুক্ত নীল ও হলুদ রঙের সমান্তরাল ডোরা, নিচের দিক হালকা বেগুনি-সাদা এবং অর্ধচন্দ্রাকৃতি লেজ দেখে প্রজাতিটি শনাক্ত করা যায়। লেজের গোড়ার দুই পাশে ছুরির মতো ধারালো ও বিষাক্ত কাঁটা থাকায় এর নাম ‘সার্জন’ বা শল্যচিকিৎসক মাছ। আকারে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় এটি বর্তমানে ‘ন্যূনতম উদ্বেগজনক’ শ্রেণিভুক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টায়। কুয়াকাটা থেকে কিছু দূরে গভীর সমুদ্রে একটি ফিশিং ট্রলারের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি আটকা পড়ে। ওই ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম মিয়া জানান, সে সময় হঠাৎ করেই এটি জালে ধরা পড়ে। এর আগে তিনি এ ধরনের কোনো মাছ দেখেননি। দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় মাছটি আলাদা করে তীরে নিয়ে আসেন তিনি।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ‘সিফাত ফিশ’ নামের একটি মাছের আড়তে মাছটি আনা হয়। দীর্ঘদিনের মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে সাধারণত এ ধরনের মাছ পাওয়া যায় না। বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র অপূর্ব রূপের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা মাছটির লেজের কাঁটাকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এই প্রজাতির দেখা মেলে। জেলেরা স্থানীয়ভাবে একে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও ডাকে।