আগামী শুক্রবার ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সিদ্ধান্ত গভর্নর কাজুও উয়েদার কার্যকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে চলেছে। এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক গতিপথের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুইটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে—একটি পরিচিত পথ হলো বিওজে বছরের বাকি সময়ের জন্য আরও কঠোরতা স্থগিত রাখা। অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিন এড়িয়ে যাওয়া একটি পথ: দ্রুত ও স্থিরভাবে সুদহার বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে।
জাপানের অর্থনীতি প্রায় ২৭ বছর ধরে শূন্য বা তার কাছাকাছি সুদহারে অভ্যস্ত। ব্যাংক অব জাপান ২০০১ সালে প্রথম কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং (কিউই) চালু করে এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে সেই নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ২০০৮ সালের সংকটের পর কিউই শুরু করলেও পরবর্তীতে তা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু জাপান সেই ফাঁদে আটকে রয়েছে। গত জুনে সুদহার ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়, যা ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, তবে উয়েদার দল বারবার শূন্যের কাছাকাছি থেকে দৃঢ়ভাবে সরে আসার সুযোগ হাতছাড়া করেছে।
দ্রুত সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি হলো—এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশের বেশি সময় ধরে অতি-শিথিল নীতি ও কর্পোরেট সুরক্ষা জাপানকে শক্তিশালী না করে বরং দুর্বল করেছে। জাপান ইনকর্পোরেটেড একটি মৌলিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি: যদি দেশটি সত্যিই ‘ফিরে এসেছে’, যেমনটি প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির সরকার দাবি করে, তাহলে কেন এখনও স্থায়ী আর্থিক জীবন-সহায়তার প্রয়োজন? প্রতি বছর যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়, তার বেশিরভাগই ২৫ বছরের অসাধারণ কোয়ান্টিটেটিভ ইজিংয়ের কারণে।
তবে সম্প্রতি উয়েদার বিওজে কোয়ান্টিটেটাইট টাইটেনিং (কিউটি) থেকে নীরবে সরে এসেছে, যার কারণ অর্থনীতির বাইরেও রয়েছে। টোকিওর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এখনও সস্তা অর্থ ও দুর্বল ইয়েনের পক্ষে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও একটি কারণ—উদ্দীপনা খুব দ্রুত প্রত্যাহার করতে বিওজি সতর্ক। জাপানের পরবর্তী মন্দার জন্য দায়ী হওয়া বা নিক্কেই ২২৫ স্টক এভারেজের ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বশ্রেষ্ঠ বুল রান ব্যাহত করার দায় এড়াতে চায় উয়েদার দল।
ইতিহাস একটি সতর্কবার্তা দেয়। ২০০৬-২০০৭ সালে গভর্নর তোশিহিকো ফুকুই সুদহার মাত্র ০.৫ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হন এবং কিউই শেষ করেন। ২০০৮ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিওজে দ্রুত শূন্যে ফিরে আসে এবং কিউই পুনরুজ্জীবিত করে। পরবর্তী বছরগুলোতে কিউই সম্প্রসারিত হয়, জাপানকে তরলতার অবিরাম ধারা থেকে মুক্ত করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিওজে যদি ০.৫ শতাংশে অটল থাকত এবং আরও সুদহার বৃদ্ধি করত, তাহলে জাপানের ৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি আজ আরও উদ্ভাবনী, উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হতো। এটি বৈদ্যুতিক যানবাহনের রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে পারত, পরিবর্তে চীনকে ভবিষ্যতের অটোশিল্পে আধিপত্য করতে দেখত না। এশিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানেও জাপান পাশে না থেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে পারত।
একটি শক্তিশালী ইয়েন বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থার সংকেত পাঠাবে এবং জাপানের আমদানি-মুদ্রাস্ফীতির ওপর নির্ভরতা কমাবে—যা উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও অবমূল্যায়িত মুদ্রার দ্বারা চালিত ‘খারাপ’ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি। এখন প্রশ্ন হলো, বিওজে কি কম পথ বেছে নিয়ে বাজারকে চমকে দেবে এবং তার সীমাহীন তরলতার যুগ শেষ করবে? উয়েদার জন্য এটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একটি অক্লান্ত এটিএম হিসেবে কাজ করা বা ইয়েনকে ৪০ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে ফেলে রাখা ২৭ বছরে জাপানের প্রাণশক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। এখন পাঞ্চবোল সরিয়ে নেওয়ার সময়—এবং দ্রুত।




