যুব সমাজের প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রেড লবস্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দামোলা অ্যাডামোলেকুন। তিনি বলেন, এআইকে ভয় না পেয়ে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তিকে তিনি ‘একজন শক্তিশালী সহকারী বা চিফ অব স্টাফ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে যদি তারা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে এবং চিন্তাভাবনা আউটসোর্স না করে।
নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া অ্যাডামোলেকুনের শৈশব কেটেছে জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তার বাবা নিউরোসার্জন এবং মা ফার্মাসিস্ট। হাইস্কুলে পড়াকালীন তিনি স্টক পোর্টফোলিও খোলেন এবং ওয়ারেন বাফেটের মতো বিনিয়োগকারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরবর্তীতে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বিনিয়োগ ক্লাবের নেতৃত্ব দেন এবং গোল্ডম্যান স্যাকসে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করার সময় তিনি বাফেটের সাক্ষাৎ পান। বাফেটের ধারাবাহিকতা ও নিজের চিন্তা প্রক্রিয়া শেয়ার করার পদ্ধতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি বাফেট সম্পর্কে বলেন, “তাঁর একটা প্রক্রিয়া আছে, একটা পদ্ধতি আছে। ৫০-৬০ বছর ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অসাধারণ। তিনি মানতে পারেন তিনি সবসময় সঠিক নন, কিন্তু তিনি যা দেখেন তা শেয়ার করেন।”
হার্ভার্ড শেষে তিনি পলসন অ্যান্ড কোং-এ যোগ দেন এবং সেখানে বস জন পলসনকে সংগ্রামী রেস্টুরেন্ট চেইন পি.এফ. চ্যাং অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেন। ২০১৯ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি পি.এফ. চ্যাং-এর প্রধান নির্বাহী হন এবং মহামারির সময় প্রতিষ্ঠানটিকে সফলভাবে পরিচালনা করে প্রবৃদ্ধিতে ফিরিয়ে আনেন। ২০২৪ সালে ৩৫ বছর বয়সে তিনি রেড লবস্টারের দায়িত্ব নেন, যখন কোম্পানিটি দেউলিয়াত্ব সুরক্ষার আবেদন করেছিল।
রেড লবস্টারের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার গুরুতর ভুলের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘এন্ডলেস শ্রিম্প’ প্রমোশন সারা বছর চালু রাখা। আদালতের নথি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ কোম্পানিকে একক কোয়ার্টারেই ১১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে ফেলে। পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাডামোলেকুন ১০০টির বেশি শাখা বন্ধ করেন, মেনু সরলীকরণ এবং রেস্টুরেন্টের দীর্ঘদিনের অবহেলিত রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের মূল পরিচয়ে ফিরে আসার ওপর জোর দেন, যা হলো গ্রাহকদের একটি স্মরণীয় ডাইনিং অভিজ্ঞতা প্রদান। তাঁর মতে, “মানুষ মনে করে আমরা খাবার পরিবেশন করি, কিন্তু আমরা আসলে গ্রাহক অভিজ্ঞতা পরিবেশন করি, এবং তার অনেকটাই মানবিক সংযোগ।”
তিনি রেড লবস্টারকে রেস্টুরেন্ট শিল্পের সবচেয়ে প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক কোম্পানিতে পরিণত করতে চান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইনভেন্টরি, সময়সূচি ও প্রশাসনিক কাজ সহজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন, যাতে ম্যানেজাররা গ্রাহকদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেন। তাঁর আশা, এতে কর্মীরা কাজ উপভোগ করবেন।
অ্যাডামোলেকুন নিজেও ক্যারিয়ারের শুরুতে ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। হাইস্কুলে মেরিল্যান্ডের ক্লাইডস নামের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় তিনি মানুষ সম্পর্কে দ্রুত ধারণা নেওয়া, কঠিন পরিস্থিতি সামলানো এবং গ্রাহকদের খুশি করার দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি বলেন, “মানুষ রেস্টুরেন্টে আসে তাদের জীবনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে, আর আমাদের কাজ তাদের মুখে হাসি ফোটানো। এই কাজ কঠিন মানুষ ও পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা তৈরি করে, যা নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য।” এখন তিনি এই দক্ষতা আরও বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করছেন—গ্রাহক ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করা এবং ৩০ হাজার কর্মচারীকে নেতৃত্ব দিয়ে রেড লবস্টারকে ‘রেস্তোরাঁ শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তন’ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন।




