যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) দেশের বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর শুল্ক ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও, অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন রোবোট্যাক্সি কোম্পানি ওয়েমো হাজার হাজার চীনা ইভি আমদানি করছে বলে জানা গেছে। দেশটির নীতি অনুযায়ী, চীনা গাড়ি প্রস্তুতকারকদের পণ্য সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ডিলারশিপে বিক্রি করা নিষিদ্ধ, তবে ওয়েমো এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ গাড়ি জাহাজে করে দেশে নিয়ে আসছে।
ওয়েমো সম্প্রতি চীনের একটি শীর্ষ ইভি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই গাড়িগুলো ওয়েমোর স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং প্রযুক্তির জন্য ব্যবহার করা হবে, যা কোম্পানিটির রোবোট্যাক্সি নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই সান ফ্রান্সিসকো ও ফিনিক্সের মতো শহরে বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি পরিষেবা পরিচালনা করছে এবং সম্প্রসারণের জন্য আরও গাড়ির প্রয়োজন ছিল।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে সেগুলো আমদানি করতে পারছে। এতে করে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে, কারণ ওয়েমোর গাড়িগুলোতে চীনা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উপাদান থাকতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।
অ্যালফাবেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সমস্ত আমদানি নিয়ম মেনেই চলছে এবং গাড়িগুলো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির জন্য নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা করিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে এবং দেশীয় ইভি শিল্পের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
ওয়েমো ইতিমধ্যে এই গাড়িগুলোর একটি অংশ তাদের বহরে যুক্ত করেছে এবং আগামী মাসগুলিতে আরও গাড়ি যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগ এই আমদানির বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে ওয়েমো দাবি করছে, তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং তারা সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের চীনা প্রযুক্তি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার নীতির একটি বড় ফাঁকফোকর উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তি কোম্পানি এই পথ অনুসরণ করতে পারে, যা সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।




