ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব লিভারপুলের মালিকানা কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ক্লাবটির প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির লক্ষ্যে মালিক প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকারী জোটের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারী জোটটির নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় উদ্যোক্তা অমিত ভাটিয়া, যিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা। এই জোটে আরও যুক্ত হয়েছেন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন। গত তিন মাস ধরে এফএসজির সঙ্গে জোটটির দরকষাকষি চলছে।
আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে দ্য টাইমসের কাছে একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত সবকিছু ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে, তবে এখনও চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। অন্যদিকে স্কাই নিউজ দাবি করেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী লিভারপুলের সামগ্রিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি পাউন্ড, যা এই চুক্তিকে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগে পরিণত করতে পারে।
চুক্তি সম্পন্ন হলে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির মালিকানায় যুক্ত হবেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থ থাকা সত্ত্বেও লিভারপুল ইচ্ছামতো খেলোয়াড় কেনার সুযোগ পাবে না। প্রিমিয়ার লিগের ‘স্কোয়াড কস্ট রেশিও’ নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাবগুলোর মোট খরচ ফুটবল-সংক্রান্ত আয় এবং খেলোয়াড় বেচাকেনা থেকে পাওয়া নিট ফলাফলের ৮৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ফলে নতুন বিনিয়োগ মূলত ক্লাবের বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জোটের নেতা অমিত ভাটিয়া গত মাসেই ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) বোর্ড থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি নিজের শেয়ার রুবেন জ্ঞানালিঙ্গমের কাছে হস্তান্তর করেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, জেফ বেজোসের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি, যেখানে এদুয়ার্দো সাভেরিনের সম্পদ ৩২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর চেলসি কেনার একটি ব্যর্থ উদ্যোগেও সাভেরিন জড়িত ছিলেন।
২০১০ সালের অক্টোবরে টম হিকস ও জর্জ জিলেটের কাছ থেকে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনে নেয় এফএসজি। তাদের পরিচালনায় ক্লাবটি দুইবার প্রিমিয়ার লিগ এবং একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছে। এছাড়াও অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামের সংস্কার এবং কার্কবিতে আধুনিক অনুশীলন কেন্দ্র নির্মাণ করেছে ২০ বার লিগজয়ী এই ক্লাব।
এফএসজি ধীরে ধীরে লিভারপুল থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে যেতে চায় কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে দ্য টাইমস জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে এই বিনিয়োগ ক্লাবের আর্থিক ভিত আরও শক্তিশালী করবে। ২০২৩ সালে ‘ডাইনেস্টি ইকুইটি’র কাছে ৮ থেকে ১৬ কোটি পাউন্ডে ছোট একটি শেয়ার বিক্রির সময় এফএসজির সভাপতি মাইক গর্ডন বলেছিলেন, লিভারপুলের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে। বর্তমান চুক্তি নিয়ে মন্তব্যের জন্য দ্য টাইমস এফএসজির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




