টেনিস তারকা ফ্রান্সেস টিয়াফো বর্তমানে একের পর এক ব্র্যান্ডের প্রচারণায় ব্যস্ত। অ্যাপারেল, পানীয়, গাড়ি কিংবা ব্যাংকিং—বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। এই প্রতিটি চুক্তির আওতায় তাকে ফটো ও ভিডিও শ্যুটে অংশ নিতে হয়, যা তার ব্যস্ত সূচির একটি বড় অংশ দখল করে আছে। ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ধীরে ধীরে এই কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।

সম্প্রতি ইভিয়ানের ২০০তম বার্ষিকী প্রচারণার একটি শ্যুটের আগে তিনি বলেন, “আমার নিজের সময়ের অনেকটাই এই কাজে চলে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত আমাকে শুধু নিজেকে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রক্রিয়াটি উপভোগ করতে হবে—ফ্যাশনের অংশ, ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পুরো যাত্রা, যারা আমার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” প্রতিটি শ্যুটের আগে ব্র্যান্ডগুলো জানিয়ে দেয় তারা কী চায়, যাতে টিয়াফো সেই অনুযায়ী মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি এমনিতে অপ্রত্যাশিত মানুষ, কিন্তু এটা আপনার ব্র্যান্ড। এখানে অপ্রত্যাশিত হওয়া চলবে না। এটাকে আকর্ষণীয় করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে এই কাজের বিবর্তন দেখতে ভালো লাগছে।”

শ্যুটের সময় নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বও ফুটিয়ে তোলার কৌশল শিখেছেন তিনি। তার ভাষ্য, “তাদের একটা ভিশন থাকে—কোর্টে যা দেখেছেন তার ভিত্তিতে দারুণ কিছু পোজ। আমরা মাঝপথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করি। ইভিয়ান এ ব্যাপারে দারুণ কাজ করে।” ইভিয়ানের সাম্প্রতিক প্রচারণায় টিয়াফো অন্যতম মুখ। ফরাসি এই কোম্পানি টেনিসে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। নিউইয়র্কে ইউএস ওপেনের আগে তারা আয়োজন করবে ‘২০০ ইয়ার্স ইয়াং সেলিব্রেশন’।

সব শ্যুট যে সমান উপভোগ্য নয়—তা স্বীকার করেছেন টিয়াফো। সব সময় ছবি তোলা তার প্রিয় কাজ নয়, তবে এটিকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন। কারণ ব্র্যান্ডগুলো তাকে বেছে নিচ্ছে, আর এই সুযোগকে তিনি হেলাফেলা করতে চান না। ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে তিনি সম্পর্কের মতো দেখেন। তিনি বলেন, “এটা সংখ্যার ব্যাপার নয়। ব্র্যান্ডটি আমার সঙ্গে মানানসই কি না—সেটাই আসল। টেনিসই মূল অগ্রাধিকার, কিন্তু যদি সেটা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করা যায়। দিনে সীমিত সময়, তাই আমি শুধু নিজে থাকার চেষ্টা করি।”

প্রতিটি প্রচারণাই নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইভিয়ানের একটি শ্যুটে কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে কাজ করেছেন টিয়াফো। তিনি বলেন, “সবাই যখন শিথিল হয়ে মজার স্কিট করে, সেটা সত্যিই দারুণ। এতদিনের যাত্রা একসঙ্গে—এটা সত্যিই আনন্দের।” টেনিস খেলোয়াড়দের মতো টিয়াফোর সূচিও সফরনির্ভর। বছরের ক্যালেন্ডার জুড়ে তিনি ব্র্যান্ডের কাজের জন্য সময় বের করেন। তিনি মনে করেন, স্পনসরদের খুশি রাখতে হবে, কারণ তারাও তার প্রতি সদয়। তিনি বলেন, “আমি চাই তারা আমার সঙ্গে বেড়ে উঠুক। এই সম্পর্কগুলো শ্যুটকে আরও মজার করে তোলে।” চুক্তিতে যতটা সময় দেওয়া থাকে, টিয়াফো প্রায়ই তার চেয়ে বেশি সময় শ্যুটে কাটান।

শ্যুট শেষ হলে নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন তিনি। সম্পাদক ও প্রযোজকরা তাকে ভালোভাবে তুলে ধরবেন—এই আস্থা তার আছে। তিনি বলেন, “লোকজন মজা করতে চাইলে আমি প্রস্তুত। আমি বন্ধুদের ওপর ছেড়ে দিই।”