বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেজার পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লুলুলেমনের এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষা আপাতত গতি হারাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা রঞ্জু দাস মাত্র কয়েক মাসের চাকরির পরই পদত্যাগ করেছেন। ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে লুলুলেমনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এর আগে অ্যামাজনের এআই সার্ভিসেস বিভাগ পরিচালনা করেছেন এবং অপটামল্যাবস ও সোয়ান এআই স্টুডিওসের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোম্পানিটির ‘পরবর্তী ধাপের’ এআই কৌশল বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই কৌশল সত্যিকার অর্থে গতি পাওয়ার আগেই তিনি বিদায় নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তার এই প্রস্থান ঘটল সেই সময়ে, যখন লুলুলেমনের সাবেক প্রযুক্তি প্রধান জুলি অ্যাভেরিল ‘চিফ এআই অফিসার’ পদবির ধারণাটিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি কলামে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, অনেক কোম্পানি প্রকৃত কোনো কৌশল ছাড়াই চাকরির পদবিতে ‘এআই’ শব্দটি যুক্ত করছে।
এদিকে, দাসের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এআই নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হলো। তিনি যখন যোগ দিয়েছিলেন, তখন লুলুলেমন তার ডিজিটাল এবং ডেটা-চালিত উদ্যোগগুলোতে এআই ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। তার অধীনে বেশ কিছু প্রকল্প শুরুও হয়েছিল, তবে সেগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, লুলুলেমনের জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় ধাক্কা, কারণ খুচরা খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আচরণ বিশ্লেষণে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠছে। কোম্পানিটি এখন নতুন করে এআই নেতৃত্ব খুঁজতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং কৌশলগত দিক থেকে জটিল।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই পদবি তৈরি করা সহজ, কিন্তু সেই পদে সঠিক মানুষ খুঁজে বের করা এবং কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। জুলি অ্যাভেরিলের সমালোচনার সূত্র ধরে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, আসল পরিবর্তন আনার জন্য শুধু পদবি বদলই কি যথেষ্ট?




