প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে চীনে তৈরি নতুন মানবাকৃতি রোবটের (হিউম্যানয়েড রোবট) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিল যে, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিক্স খাতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতৃত্ব নিয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা এল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন অত্যাধুনিক মানবিকৃতি রোবট উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রোবট ভবিষ্যতে সামরিক ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে হোয়াইট হাউসের প্রযুক্তি-ভিত্তিক জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন বাজারে চীনা মানবাকৃতি রোবটের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র ও শিল্পোৎপাদনের ধারণাকে ঘিরে বড় শক্তির কৌশলগত লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ।