রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের পেছনের দিকে সংযুক্ত ওয়াগন থেকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লক্ষ্য করে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি ওয়াগনের পাশে অবস্থান নিয়ে জগের সাহায্যে তেল উত্তোলন করছেন। উত্তোলিত তেল জারে ভরে তারা নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন। কয়েকজনকে তেলভর্তি জার নিয়ে স্টেশন এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলস্টেশনে আন্তনগর ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর পাওয়ার কারে ব্যবহারের জন্য তেলবাহী ওয়াগনগুলো সেখানে আনা হয়েছিল। তেল সরবরাহের পর দুটি ওয়াগন উল্লিখিত ট্রেনে সংযুক্ত করা হয়, যা ঈশ্বরদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যেহেতু এটি একটি লোকাল ট্রেন, তাই হরিয়ান স্টেশনে মাত্র তিন মিনিটের যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুসারে, হরিয়ান স্টেশন এলাকায় ওয়াগন থেকে তেল চুরির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন রেলওয়ের ওয়েম্যান কিরণ আলী, তাঁর ভাই নয়ন আলী, মিলন, আল-আমিন, নাহিদ, রক্সি ও রিপন। তাদের সবার বসবাস স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগের বিষয়ে রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন যে, তিনি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং তেল চুরির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন; পরবর্তীতে আর কোনো কল ধরেননি।

অপরদিকে, কিরণ আলী জানান যে, ঘটনার সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘তেল নেওয়ার ঘটনায় আমার মতো দেখতে আমার ছোট ভাই নয়ন সেখানে ছিল।’ হরিয়ান রেলস্টেশনের মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনটি হরিয়ান স্টেশনে মাত্র তিন মিনিটের জন্য থামে। সেই সময় পাবনা থেকে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে অতিক্রমণের কারণে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেখভালের দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশের; তারাই বিষয়টি ভালোভাবে জানেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরএনবির প্রধান কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে একটি দল পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ‘ভিডিওটি দেখেছি, তাদের চিনতে পারছি। আটক করতে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।’ তেলের ওয়াগনটি রাজশাহীতে তেল নামানোর পর ফিরতি পথে ছিল। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ ভিডিওটি দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেন। তাঁর ধারণা, চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা রাজশাহীতেই তেল কোথাও লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং পরে হরিয়ান স্টেশনে সুবিধাজনক স্থানে ট্রেন থেকে নেমে যান। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।