মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই মূলত মাত্র ২০টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে কেন্দ্রীভূত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য, যা 'সবচেয়ে দোদুল্যমান সুইং স্টেট' হিসেবে পরিচিত। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০০ দিন বাকি থাকতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফ্রিজ রোববার পেনসিলভানিয়ার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে জনগণের সামনে দলের 'ফাইটিং ফর অ্যান অ্যাফোর্ডেবল আমেরিকা' এজেন্ডা উন্মোচন করেন।

লেহাই ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত এই আসনে জেফ্রিজ এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো—যিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—একটি স্টিলওয়ার্কার্স ইউনিয়ন হলে সমাবেশ করেন। সেখানে তারা বব ব্রুকসের জন্য সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালান। অবসরপ্রাপ্ত এই দমকলকর্মী বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রায়ান ম্যাকেঞ্জিকে পরাজিত করে হাউসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে চান।

জেফ্রিজ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কাটছাঁট পুনরুদ্ধার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ইরানে যুদ্ধ বন্ধের মতো ইস্যুতে মনোযোগ দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের পরাজিত করতে চায়। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে চায় তারা। তিনি আরও বলেন, “আপনারা যখন আমাদের আবার হাউসের দায়িত্ব দেবেন, তখন আপনারা এমন একটি কংগ্রেস পাবেন যা সাধারণ আমেরিকানদের পক্ষে কথা বলে এবং বেকায়দায় থাকা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।”

অন্যদিকে, ব্রুকসের প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রায়ান ম্যাকেঞ্জি নিজের ১০০ দিনের প্রচারণা শুরু করেছেন। পুরো বছর জুড়ে দলীয় পুনর্বিন্যাস, প্রাইমারিতে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনী অর্থসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনী মৌসুম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে এক ধরণের গণভোট হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের সমর্থিত অর্থনৈতিক নীতি এখন রাজনৈতিক ভূখণ্ডকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। ট্রাম্প নিজে সম্প্রতি এই জেলায় একটি ম্যাক ট্রাক প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে ম্যাকেঞ্জির প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বলেছেন, “আমাদের মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততেই হবে।”

ট্রাম্প প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘন ঘন সফর করছেন, কারণ রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে নিজেদের প্রচারণায় কাজে লাগাতে চাইছেন। গত সপ্তাহে তিনি জর্জিয়া সফর করেন—যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এবং সামনে মিশিগান সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প শুধু দলের সাধারণ সদস্যদের সমর্থনই প্রকাশ করেন না, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা, ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের বিরোধিতা এবং বিচারকদের সমালোচনায়ও সময় ব্যয় করেন।

রিপাবলিকানরা আশা করছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত আইন—ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট যা কর হ্রাস ও ব্যয় কাটছাঁটের ব্যবস্থা রেখেছে—এবং সম্প্রতি হাউসে পাস হওয়া আইনপ্রণেতাদের শেয়ার লেনদেন সীমিত করার বিল তাদের ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা এনে দেবে। তবে ঐতিহাসিক ধারা অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায় এবং ইরান যুদ্ধের অজনপ্রিয়তাও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষকে পুঁজি করে এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও জ্বালানি মূল্যের মতো গৃহস্থালি ইস্যুতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে হাউসের সংকীর্ণ ব্যবধান পেরোতে চাইছে। মোট ৪৩৫টি আসনের মধ্যে হাউসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ হয় মাত্র কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। বিশ্লেষকদের মতে, সত্যিকারের টস-আপ আসনের সংখ্যা ২০-এরও কম।

পেনসিলভানিয়ার ৭ম জেলা ছাড়াও রাজ্যটির ১ম, ৮ম ও ১০ম জেলায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান দখল করা আসনগুলো দখলের চেষ্টা করছে। গভর্নর শাপিরো, যিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে চান, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে নিজের রাজনৈতিক পুঁজিও বিনিয়োগ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই সবচেয়ে দোদুল্যমান সুইং স্টেট। আমরা পেনসিলভানিয়ার মঙ্গল ও সততাকে এগিয়ে নেওয়ার নিজেদের দায়িত্ব পালন করব এবং ওয়াশিংটনের বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অবসান ঘটাব।”

হাউস স্পিকার মাইক জনসন নিজেও দেশব্যাপী সফরে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও প্রচারণা চালাবেন। হাউসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকানদের হাতে বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের জুনের রায়—যাতে জাতীয় দলগুলো এখন সরাসরি প্রার্থীদের প্রচারণায় অর্থ দিতে পারবে—সে নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে তা দেখার বিষয়।