গ্রীষ্মকালের তীব্রতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা এতটাই বেড়েছে যে এটি উভয় দেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। সিএনবিসির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। 'দ্যা চায়না কানেকশন' শীর্ষক নিউজলেটারে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে বিতর্ক বর্তমানে শুল্ক ইস্যুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সাধারণত শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয়, কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় এআই প্রযুক্তিতে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখতে, অন্যদিকে চীন দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছে। সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই গ্রীষ্মে এআই রেসের গতি এতটাই দ্রুত হয়েছে যে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে যেমন মার্কিন কোম্পানিগুলো এআই চিপ ও সফটওয়্যারে বিপুল বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে চীন নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে তৎপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক নিয়ে আলোচনা এখন গৌণ হয়ে যাচ্ছে, কারণ দুই দেশই এআই-তে আধিপত্য বিস্তারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই প্রতিযোগিতা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথও নির্ধারণ করবে। যেসব দেশ এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে, তারা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যস্ত করছে। জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় এআই এখন শীর্ষে স্থান পেয়েছে, যা বাণিজ্য বিরোধের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিএনবিসির বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই প্রতিযোগিতার গতি ও তীব্রতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও গবেষণার পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও এটি প্রভাব ফেলছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা এখন এআই-ভিত্তিক সমাধান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। ফলে, শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে গৌণ হয়ে পড়ছে, এবং এআই রেস প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।