বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুব দলের কোচ জেরার্ড জোন্সের বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ীই তাঁকে অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে এরপর কী হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ব্রিটিশ এই কোচের বেতন নিয়ে আলোচনা শুরু হয় সোমবার সকালে, যখন তিনি ফেসবুকে লেখেন যে এখনো বেতন পাননি তিনি। ফলে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের খাবারের টাকাও পাঠাতে পারছেন না বলে জানান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পোস্টে জোন্স জানান, তিনি অর্থ পেয়েছেন ঠিকই, তবে ব্যাংকিং সংক্রান্ত একাধিক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বেশ কিছু নতুন সমস্যা সামনে এসেছে যা তাঁকে আগে জানানো হয়নি। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কিছু মানুষের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
স্ত্রী ও তিন সন্তান থেকে দূরে থাকার কষ্টের কথা উল্লেখ করে এই উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ লিখেছেন, ঢাকায় এবং আজ এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন যা তাঁকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অসহায় বোধ করিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষ তাঁর গাড়ির কাছে এসে গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাইছে এবং ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা করছে। এই ক্রমাগত অনিশ্চয়তা ও নতুন সমস্যা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে তিনি জানান। নিজেকে একা ও বিপন্ন মনে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত বোধ করছি। আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত, অসহায় এবং একা।’ সবকিছু দ্রুত সমাধান হোক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে যুব দলের আবাসিক ক্যাম্প চলছে এবং সেখানেই অবস্থান করছেন জেরার্ড জোন্স। এর আগে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘খুব মন খারাপ আর বিষণ্ন লাগছে। আমার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সত্যি চিন্তিত। প্রতিনিয়ত ভুল বোঝাবুঝি আর অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আজও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম।’
দুপুর দেড়টার দিকে ভিডিও বার্তায়ও হতাশা প্রকাশ করে এই কোচ বলেন, প্রতিদিন নতুন ধাক্কা আসছে এবং আজকের সমস্যাগুলো আরও প্রকট। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা খুবই হৃদয়বিদারক। শুধু আমি একা নই, এই পরিস্থিতিতে আমরা তিনজনই খারাপ বোধ করছি। আমি ভেতরে-ভেতরে একদম শেষ হয়ে গেছি। আমার মনে হচ্ছে আমি আমার পরিবারকে হতাশ করেছি, আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রচণ্ড হতাশ করেছি।’
এদিকে, বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতনের টাকা নিজ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজ দুপুরে যশোর থেকে ঢাকায় এসেছেন জেরার্ড জোন্স। গত জুন মাসেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন এই ইংলিশ কোচ।




