ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট দিয়েই প্রায় আট মাস পর মাঠে ফিরতে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাথান লায়ন। সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্র্যাভিস হেড এ প্রসঙ্গে জানান, লায়ন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং দলের যে কারও চেয়ে বেশি মুখিয়ে আছেন মাঠে নামতে। গত ডিসেম্বরে অ্যাডিলেডে অ্যাশেজের জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ছিটকে পড়ার পর থেকে লায়নকে আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি। তবে গত সপ্তাহে ব্রিসবেনে ম্যাচ সিমুলেশনে নিজের প্রস্তুতির প্রমাণ রেখেছেন তিনি, ফলে দলের কোচিং স্টাফ ও সতীর্থদের কাছ থেকে লায়নকে নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলে বার্তা আসছে।
মজার ঘটনা উল্লেখ করে হেড জানান, মাঠে দাঁড়িয়ে লায়ন বল ছাড়লে তিনি ব্যাট চালান, কিন্তু বলটি ব্যাটের পাশ দিয়ে চলে যায়। হেডের ভাষ্য, বলটা ‘মোটামুটি ভালোই’ ছিল—যা থেকে বোঝা যায় লায়নের বোলিংয়ে এখনও আগের সেই ধার আছে। ক্যাম্পবেল টম্পসনফক্স স্পোর্টসকে হেডের এই মন্তব্যই বার্তা দিচ্ছে যে, ৩৮ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার ফেরার জন্য তৈরি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে লায়নের অতীত সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে দুই টেস্টের সিরিজে ২২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি—বিদেশের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজে যা এখনও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। ঢাকায় প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের দ্বিতীয় টেস্টে ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারসহ সিরিজ সমতায় ফেরান অস্ট্রেলিয়াকে। এশিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলারের এক টেস্টে ১৩ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তখন ছিল ইয়ান বোথামের পর দ্বিতীয়।
অন্যদিকে, ২২ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে ডারউইনে। উত্তর অস্ট্রেলিয়ার শুকনা শীতের আবহাওয়ায় তৈরি উইকেটের শুরুর দিকে কিছুটা সমান বাউন্স থাকলেও শুকনা আবহাওয়ায় দ্রুত ফাটল ধরতে পারে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার কেন রিচার্ডসন মনে করেন, গ্যাবা বা ওয়াকার মতো চেনা পেস-বাউন্সের বদলে এখানে মিলতে পারে উপমহাদেশীয় ধাঁচের নিচু, ধীর উইকেট। ফলে এই পিচে স্পিনার হিসেবে লায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।




