চিকিৎসকদের জন্য তৈরি শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরঞ্জামগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে একটি নতুন স্বাধীন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরাইজ নেটওয়ার্কের গবেষকরা সম্প্রতি ‘নোহার্ম’ (NOHARM) নামে একটি বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছেন। এই পরীক্ষায় ওপেনএভিডেন্স, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং ডক্সিমিটি—এই চারটি প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গবেষণায় ১১০০টি বাস্তব চিকিৎসা ঘটনা প্রতিটি মডেলকে বিশ্লেষণ করতে দেওয়া হয় এবং প্রায় ১৩ হাজার চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে রোগীর ক্ষতির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হয়।
ফলাফলে দেখা গেছে, সব মডেলের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে এবং সেরা পারফরম্যান্স দেখানো ডক্সিমিটি আস্কের পরেও ৭৬.৬ শতাংশ ক্ষতিকর ভুল ছিল তথ্য বাদ দেওয়ার কারণে। অর্থাৎ এআই ভুল তথ্য বলার চেয়ে বরং প্রয়োজনীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ না করেই বেশি ভুল করছে। ডক্সিমিটি আস্ক এই পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএভিডেন্স ফলাফলের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ওপেনএভিডেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ন্যাডলার ইমেলের মাধ্যমে বলেছেন, ‘আমরা মনে করি কঠোর গবেষণা পদ্ধতি এআইকে ‘পুনরায় পরীক্ষা’ চাওয়ার সুযোগ দেয় না। সন্দেহ হয় এটি পিয়ার রিভিউ পেরোবে না। উল্লেখ্য, নোহার্ম গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি—চিকিৎসাশাস্ত্রে সবচেয়ে দুর্বল সিদ্ধান্তের জন্যও এটি মৌলিক প্রয়োজনীয়তা।’
তবে এই প্রতিবেদনের মূল বার্তা কার জয় বা কার পরাজয় তা নয়, বরং সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলোরও যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করার প্রবণতা রয়েছে সেটি। স্ক্রিপস রিসার্চের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ডক্সিমিটির পিয়ারচেক প্রোগ্রামের সহ-সভাপতি এরিক টোপোল বলেছেন, ‘তথ্য বাদ দেওয়ার ত্রুটিগুলোকে যতটা সম্ভব শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা দরকার।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান মডেলগুলো ‘প্রস্তুতির মায়া’ তৈরি করে যা চিকিৎসা এআইয়ের উন্নতির সঙ্গেই জড়িত। তবে নোহার্ম গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব চিকিৎসক এআই ব্যবহার করেন তারা এআইবিহীন চিকিৎসকদের তুলনায় ভালো সেবা দিতে সক্ষম।
গবেষণার এই সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ নিয়ন্ত্রক পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এআই-চালিত ক্লিনিকাল সিদ্ধান্ত সহায়ক সরঞ্জামের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে, যাতে চিকিৎসকরা স্বাধীনভাবে এআই-এর যুক্তি যাচাই করতে পারেন। অন্যদিকে, রাজ্যগুলো বিপরীত পথে হেঁটে ২০২৬ সালে স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহার সংক্রান্ত এক ডজনেরও বেশি নতুন আইন পাস করেছে। এগুলোর বেশিরভাগেই এআই-সহায়ক কোনো সিদ্ধান্ত রোগীর কাছে পৌঁছানোর আগে মানুষের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা অবহেলা আইন এখনো এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। আদালত এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি যে মডেলের পরামর্শ ভুল প্রমাণিত হলে দায়ী কে হবেন—চিকিৎসক, হাসপাতাল নাকি এআই বিক্রেতা। এই আইনি অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক, হাসপাতাল ব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।




