বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেমেছে ভারী বৃষ্টি। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা বান্দরবানে টানা বর্ষণে থানচি ও আলীকদম উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এতে কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। থানচির তিন্দু এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

এমন পরিস্থিতিতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের প্রাণ ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম অঞ্চল ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে এই নির্দেশনা মেনে চলার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরও ভারী বৃষ্টির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ৫ জুলাই (রোববার) থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধের এই সিদ্ধান্ত পর্যটকদের জন্য হতাশাজনক হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন। আপাতত শুক্রবার পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।