বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে হায়দরাবাদের জালপল্লিতে অবস্থিত ১০ একরের একটি এস্টেট। সবুজ লনে ঘেরা এই সম্পত্তির বাসিন্দা তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যিনি একসময় মাত্র ৪০ টাকা মাসিক বেতনে শিক্ষকতার কাজ করতেন। মোহন বাবু নামের এই অভিনেতা, প্রযোজক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার জীবন কাহিনী যেন এক রূপকথার মতো।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় চরম দারিদ্র্যের এক অধ্যায়। তখন তাঁর হাতে আসত সামান্য ৪০ রুপি বেতন, যা দিয়ে সংসার চালানো ছিল দুরূহ ব্যাপার। এক বেলা খাবার জোটার নিশ্চয়তা ছিল না, অনেক সময় পানি খেয়েই রাত কাটাতে হতো। বাসস্থান হিসেবে ছিল একটি গ্যারেজ, যেখানে মৌলিক সুবিধাগুলোরও অভাব ছিল। এই প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি অভিনয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ হারাননি।
মোহন বাবুর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক এবং মঞ্চনাটকের অভিনেতা। শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর কাছ থেকেই। পেশাগত জীবন শুরু করেন শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি অনুরাগ ছিল অটুট। বাবার আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি ৫০ রুপি খরচ করে ছেলের একটি অডিশনের আবেদন জমা দেন, যা মোহন বাবুর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বর্তমানে তাঁর বাড়িটি প্রায় ব্যক্তিগত রিসোর্টের মতো। ইনফিনিটি সুইমিং পুল, আধুনিক হোম থিয়েটার, পুরস্কারের গ্যালারি, ব্যক্তিগত বার, সাউনা ও স্টিম রুম রয়েছে এখানে। বসার ঘরে রয়েছে বিশাল ইনডোর ফোয়ারা এবং শিব-পার্বতীর চিত্তাকর্ষক শিল্পকর্ম। একটি বিশেষ খেলনার ঘর রয়েছে, যেখানে তাঁর সন্তানদের ছোটবেলার খেলনা সংরক্ষিত আছে, যা এখন নাতি-নাতনিরা ব্যবহার করে। শোবার ঘর থেকে চোখে পড়ে বনাঞ্চলের নির্মল দৃশ্য।
এস্টেটের অভ্যন্তরে রয়েছে নিজস্ব কৃষিজমি, যেখানে বাঁধাকপি, টমেটো, জুচিনিসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। অসংখ্য নারকেল গাছ বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। মোহন বাবুর মেয়ে লক্ষ্মী মাঞ্চুর তথ্য অনুযায়ী, এটি তাঁর ষষ্ঠ বাড়ি। পূর্বে চেন্নাই, তিরুপতি ও হায়দরাবাদে আরও পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।
বিলাসিতার পাশাপাশি শৃঙ্খলার প্রতিও তিনি কঠোর। তাঁর বাড়িতে দুটি নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হয়। প্রথমত, ভেতরে জুতা পরে ঢোকা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, খাওয়ার সময় কোনো প্রকার কথাবার্তা না বলা। প্রতিদিন সকালে তিনি অসুস্থ থাকলেও গোসল করে পূজা করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রাতরাশ এবং দুপুর ১২টা ৪৫ থেকে ১টার মধ্যে মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশন বাধ্যতামূলক। সময় পেরিয়ে গেলে তিনি অনেক সময় খাবার গ্রহণ করেন না।
অভিনয়ের সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন মোহন বাবু। প্রথমে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু করে বর্তমানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী অধ্যাপনা করছে। তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন পরিচালনার জন্য রয়েছেন প্রায় ২৫ জন কর্মী।
চলচ্চিত্র জগতের মোহনীয়তা ও বিপুল সম্পদের আড়ালে মোহন বাবুর আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে চরম সংগ্রামে। সীমিত বেতনের শিক্ষক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার এই অসাধারণ যাত্রা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র কঠোর পরিশ্রম, অটল আত্মবিশ্বাস ও সুদৃঢ় শৃঙ্খলার কারণে।




