টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিজ ‘সুটস’-এর কাল্পনিক গল্প বাস্তবে ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কেনিয়ার এক ব্যক্তি। আইন বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশটির হাইকোর্টে বাঘা বাঘা আইনজীবীদের মতোই একের পর এক মামলা পরিচালনা করে গেছেন।
অভিযুক্ত এই ব্যক্তির নাম ব্রায়ান মোয়েন্ডা। শুধু পরিচয় দেওয়াই নয়, তিনি নিয়মিত কেনেনিয়ার আদালতে প্র্যাকটিসও করেছেন। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, তার দাবি অনুযায়ী তিনি মোট ২৬টি মামলা লড়েছেন এবং প্রত্যেকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট পর্যন্ত, কোনো বিচারকই তার আইনগত দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেননি।
এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার পেছনের কৌশলটি রুদ্ধ্যহিকথার মতো। কেনিয়ার ল সোসাইটির ডাটাবেজে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তিনি ব্রায়ান মোয়েন্ডা এনটুইগা নামের একজন সত্যিকারের তালিকাভুক্ত আইনজীবীর সন্ধান পান। আসল ব্রায়ান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কাজ করায় তার প্র্যাকটিসিং সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়েনি, ফলে পোর্টালটি অলস পড়ে ছিল। ভুলোল ব্যক্তি সেই সুযোগ নিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেন, ই-মেইল ও প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেন এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে প্রাইক্টিসিং সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যখন আসল ব্রায়ান তার প্র্যাকটিসিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন অনুভব করে পোর্টালে লগ-ইন করার চেষ্টা করেন, তখন পাসওয়ার্ড জটিলতা তাকে লো সোসাইটির আইটি বিভাগের দ্বারস্থ করে। তদন্তে ভুল সার্টিফিকেটের কাহিনি ফাঁস হয়ে যায় এবং ল সোসাইটির র্যাপিড অ্যাকশন টিম জালিয়াতির অভিযোগে ভুয়া ব্রায়নকে গ্রেফতার করে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, এই ব্যক্তি তাদের আইনজীবীর তালিকায় নেই।
ধরা পড়ার পর ভুয়া ব্রায়ান নিজের মামলা নিজে লড়ার সাহস দেখাননি, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব আকারে ছড়িয়েছিল। তিনি নিজের জামিনের জন্য কেনেনিয়ার দুই নামকরা আইনজীবী—জন খামিনওয়া ও ড্যানস্টান ওমারি—কে নিয়োগ করেন। তাদের আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত তিনি ২ লাখ কেনিয়ান শিলিং (প্রায় ১,৩০০ মার্কিন ডলার) জামিনে মুক্তি পান। এদিকে, তার ২৬টি মামলা জেতার দাবি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেনিয়ার ল সোসাইটি পরবর্তীতে জানায়, এই দাবির সমর্থনে তাদের কাছে কোনো তথ্যগত প্রমাণ নেই। তবুও এই কাণ্ড দেশজুড়ে বিস্ময় ও হাসির জন্ম দিয়েছে।




