রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি স্টুডিও থেকে দুই বছর বয়সী সম্পর্কের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। প্রথমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের বিরুদ্ধে এখন ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ এই মামলা দায়ের করেন ওই তরুণীর বড় বোন। মামলায় নামীমের বাবা মো. আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।
দুই বছর আগে এক শুটিংয়ের কাজে আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মেকআপ আর্টিস্ট তরুণীর (২৪)। মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী নামীমের স্টুডিওতে কাজ করতেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথাও চলছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন দুপুরে নামীমের স্টুডিও থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই সপ্তাহ ধরে কারাগারে আছেন নামীম।
নতুন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিরোধও হয়। গত ১০ জুন নামীম তরুণীকে তাঁর আদাবরের শেখেরটেকের স্টুডিওতে ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ওই তরুণীকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল এটি আত্মহত্যার ঘটনা। আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুর রহমান জানান, ১৪ জুন বেলা আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তরুণীকে স্টুডিওর মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় নামীম ও তাঁর এক বান্ধবী জানিয়েছিলেন, তাঁরা দুপুরে স্টুডিওতে এসে দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকানো। আশপাশের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীকে দেখতে পান। নামিয়ে দেখেন তাঁর শ্বাস–প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তরুণীর শরীরে নির্যাতনের কোনো চিহ্ন ছিল না, কেবল গলায় দাগ ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে নিহত তরুণীর বড় বোন পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি জানান, তাঁর বোন ১০ জুন বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং ১৪ জুন খবর আসে সে মারা গেছে। এর মধ্যে দুই দিন ফোন দিলে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। ১৪ জুন স্টুডিওতে গিয়ে লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ওই রাতে আদাবর থানায় মামলা হলেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখতে না পাওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নামীম বর্তমানে ১৫ জুন থেকে কারাগারে বন্দী রয়েছেন ওই তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে হওয়া আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায়।




