যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্টকে স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা থেকে কর্মকর্তা অপসারণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এই রায়ের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের (ইএসি) অবশিষ্ট তিন কমিশনারকেও বরখাস্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস ঘটনাটি নিশ্চিত করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কমিশনারদের বরখাস্তের নির্দেশ সম্বলিত ইমেইল তারা দেখেছে।

২০০২ সালে হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিদলীয় কমিশনটি দেশব্যাপী নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধন ফর্মের তত্ত্বাবধান। কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। চার সদস্যের এই স্বাধীন সংস্থায় দুজন ডেমোক্র্যাট ও দুজন রিপাবলিকান থাকার বিধান রয়েছে, এবং সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট সদস্য নিয়োগ দেন।

গত এপ্রিলে কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করার পর তিন সদস্য কার্যরত ছিলেন। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান মনোনীত টমাস হিকস নিজে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন। বাকি দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য বেঞ্জামিন হোভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিককে হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো ইমেইলের মাধ্যমে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ইমেইলে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করা হয়েছে এবং তাদের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। লক্ষণীয়, সিনেট এ তিন সদস্যের প্রত্যেককে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দিয়েছিল।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে যুক্তিযুক্ত বলে দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, যারা নির্বাচন নিরাপত্তা ও বৈধ ভোট গণনার বিষয়ে পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি করতে পারেন না, প্রেসিডেন্ট তাদের অপসারণ করতে পারেন। বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়েরও উল্লেখ করা হয়। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

এই অপসারণের ঘটনা ঘটেছে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্প বারবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ওই নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তার কাছ থেকে জয় কেড়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে এসেও তিনি ডাকযোগে ভোটদানের নিয়ম পরিবর্তনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প কমিশনটি কীভাবে পরিচালনা করবেন বা নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০০২ সালের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে পারেন, তবে এর জন্য সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। অন্যদিকে, ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই বরখাস্তের ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব মার্কিন নাগরিকের এই ঘটনা নিয়ে চিন্তা করা উচিত।