গ্রীষ্মের প্রিয় ট্রিটে যুক্ত হয়েছে প্রোটিনের ছোঁয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার জুড়ে সম্প্রতি প্রোটিন-সমৃদ্ধ আইসক্রিম একটি অন্যতম খাদ্য প্রবণতা হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত এবং নতুন ব্র্যান্ড—যেমন রিভো, নিম্বল, ব্লু বেল ও ফুটহিলস ক্রিমারি—প্রতি পরিবেশনায় ১১ থেকে ১৫ গ্রাম প্রোটিন সম্বলিত পণ্য বাজারে এনেছে। অন্যদিকে, আলোচিত ব্র্যান্ড ডেভিড প্রোটিন তাদের ফ্রোজেন ডেজার্ট নিয়ে তুমুল সাড়া ফেলেছে। তাদের পণ্যে প্রতি পিন্টে মাত্র ২১০ ক্যালোরি ও ১০ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। এই কম ক্যালোরির রহস্য হলো ইপিজি নামে এক ধরনের হজমযোগ্য চর্বির বিকল্প ও শূন্য-ক্যালোরি সুইটনারের ব্যবহার।

মার্কেট রিসার্চ ফার্ম মিন্টেলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রোটিন বাজার ২০২৪ সালে ছিল ১১৪.৪ বিলিয়ন ডলারের; যা ২০২৮ সাল নাগাদ বার্ষিক ১.৯ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে সরবরাহ এখন তার চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে। ফলস্বরূপ, প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ফ্রোজেন ইয়োগার্ট ও কটেজ চিজের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। প্রোটিনের এই ধারা আইসক্রিম শেলফেও পৌঁছে গেছে। সিরিয়াল, পপকর্ন, সোডা, দই, এমনকি ডোরিটোস ও পপ টার্টস—সব খাদ্যপণ্যেই প্রোটিন যুক্ত হচ্ছে।

ডেভিড প্রোটিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পিটার রাহাল জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাদকে পুষ্টিগুণের চেয়ে আগে রাখা। তারা চেয়েছেন ভোক্তা প্রথমে পণ্যটিকে ডেজার্ট হিসেবে গ্রহণ করুক এবং পরে পুষ্টি তথ্য জেনে চমকিত হোক। রাহালের মতে, সেটাই সফলতার চাবিকাঠি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় দুই বছরের পুরনো এবং ২০২৬ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রির লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

গত মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাহেইমে এক্সপো ওয়েস্ট নামক স্বাস্থ্য পণ্য সম্মেলনে ডেভিড প্রোটিন ব্র্যান্ডেড ট্রাকের মাধ্যমে ফ্রোজেন ডেজার্টের আগাম প্রচার শুরু করে। একই সময়ে আলোচিত এক মামলা স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যেখানে ডেভিড প্রোটিনের লেবেলে ক্যালোরি ও চর্বির তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রতিষ্ঠানটি তখন বিবৃতি দিয়ে তাদের পুষ্টি লেবেলিংয়ের সঠিকতার ওপর জোর দেয়। মে মাসে আরেক মাইলফলক আসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে, যেখানে মডেল বেলা হাদিদকে একটি ইয়টে ডেভিড প্রোটিনের অপ্রকাশিত ভ্যানিলা ফ্রোজেন ডেজার্টের পিন্ট হাতে দেখা যায়। এটি ছিল কোনো পণ্য উন্মোচনের আগে নমুনা পাঠানোর প্রথম ঘটনা, জানান বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কিগান টিগেস। আনুষ্ঠানিক লঞ্চের সময় ক্রেতাদের ন্যূনতম ছয় পিন্ট ৯০ ডলারে কিনতে হচ্ছিল। ভ্যানিলা বিন, ট্রিপল চকলেট, ট্রিপল পিনাট বাটার ও কুকি ডাফ—এই চার ফ্লেভারের পণ্যটি ২৮ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। একইসঙ্গে নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ভিলেজে একটি পপ-আপ স্কুপ শপ চালু হয়, যেখানে প্রথম দিন ৫০০ জন এবং প্রথম সপ্তাহান্তে ২ হাজারের বেশি ক্রেতা আসে। এই দোকানটি সামাজিক মাধ্যমে ১০ মিলিয়নের বেশি ইম্প্রেশন পেয়েছে। সম্প্রতি এই স্কুপ শপে পপি-র মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যকর ব্র্যান্ডও যুক্ত হয়েছে।

নিম্বলের প্রতিষ্ঠাতা রানিয়া নাসিস মনে করেন, প্রোটিন কেবল সাময়িক স্বাস্থ্য ট্রেন্ড নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবা স্টার্টআপের অভিজ্ঞতা থেকে নিম্বল তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ যদি ইতিমধ্যে পছন্দ করে এমন কিছুতে স্বাস্থ্যকর সংযোজন করা যায়, তাহলে অভ্যাস বদলানো সহজ। নিম্বল ফ্রেঞ্চ-স্টাইল রেসিপি ব্যবহার করে—যাতে বেশি ডিমের কুসুমের কারণে ক্রিমি ও ঘন টেক্সচার মেলে। বর্তমানে ভ্যানিলা, চকলেট ও কুকিজ অ্যান্ড ক্রিম—এই তিন ফ্লেভার নিয়ে ব্র্যান্ডটি নিউইয়র্কের পপ আপ গ্রোসারে সফট-লঞ্চ করছে এবং শরতে বাইরের বিনিয়োগ চাইবে।

অপর ব্র্যান্ড রিভোর প্রতিষ্ঠাতা কেভিন বেটস নিজেকে একজন খাদ্যরসিক ও স্বাস্থ্যসচেতন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি চান ক্রেতারা প্রথমে স্বাদের জন্য রিভো বেছে নিক, শুধু পুষ্টি বিবেচনায় নয়। রিভো ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি ফ্লেভার নিয়ে বাজারে আসে এবং এখন স্প্রাউটস, ব্রিস্টল ফার্মস ও মাদার্স মার্কেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিতরণ করছে। তাদের পণ্যে আখের চিনি ব্যবহার করা হয় এবং কোনো কৃত্রিম স্বাদ বা গাম রাখা হয়নি। বেটসের মতে, যারা পুষ্টি হিসাব করার চেয়ে স্বাদকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাদের জন্যও বড় বাজার আছে।

প্রোটিন মিশ্রণের কারণে ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিমের টেক্সচার ও ঘনত্ব বদলে যেতে পারে এবং দানাদার হতে পারে। হুই প্রোটিনের কারণে অদ্ভুত আফটারটেস্টও তৈরি হতে পারে। নিম্বল মিল্ক প্রোটিন কনসেনট্রেট ও হুই প্রোটিন আইসোলেট ব্যবহার করে, আর রিভো চিকোরি রুট ফাইবার যোগ করে প্রোবায়োটিক সুবিধাও দিচ্ছে। সার্বিকভাবে, বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে প্রোটিন আইসক্রিম আরও বৈচিত্র্যময় ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। স্বাস্থ্যকর বিকল্পে স্বাদকে এখন আর ত্যাগ করতে রাজি নন ভোক্তারা—এটাই নতুন বাস্তবতা।