বান্দরবান জেলায় চলতি মৌসুমে রাংগোয়াই আমের প্রচুর ফলন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২৫ হাজার ৮৬০ একর জমিতে আম চাষ হয়, যার ৬০ শতাংশই স্থানীয় এই প্রজাতির। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া এই চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় কৃষকরা বেশি করে রাংগোয়াই চাষ করেন। কিন্তু এবার ফলন ভালো হলেও বাজারজাতকরণের অভাবে চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রুমা উপজেলার চান্দাপাড়ার বাগানি আতুইমং মারমার ১২ একর জমিতে প্রায় দুই হাজার রাংগোয়াই আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি গাছের আম পেকে গেছে। কিন্তু কোনো পাইকারি ক্রেতা না আসায় গাছ থেকে পাকা আম মাটিতে ঝরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দাম বাড়বে, ব্যবসায়ীরা আসবেন এই আশায় বসেছিলাম। এখন পর্যন্ত দেড় হাজার মণের বেশি আম পচে গেছে।’
একই অবস্থা রোয়াংছড়ির চুয়ানলুপাড়ার পলাশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার। তাঁর পাঁচ একরের বাগান থেকে এ মৌসুমে ছয় থেকে সাত শ মণ আম ফলবে বলে ধারণা ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি আম ঝরে পড়ে নষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা রাংগোয়াই আমের দাম মণে সাড়ে চার শ থেকে পাঁচ শ টাকার বেশি দিচ্ছেন না, যা দিয়ে সংগ্রহের খরচই ওঠে না। অথচ আম্রপালি ও বারি জাতের আম মোটামুটি দামে বিক্রি হচ্ছে।
রোয়াংছড়ি-রুমা সড়কের চুয়ানলুপাড়া, বমপাড়া, দুর্নীবারপাড়া, খামতাং খেয়াংপাড়া, থোয়াইবতং মারমাপাড়া, চান্দাপাড়া ও সেপ্রুপাড়া এলাকার বাগান ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার বাগানিরা বলছেন, পাইকারি ক্রেতা না থাকায় নিজেদের উদ্যোগে হাটে নিয়ে খুচরা বিক্রি করেই চালাতে হচ্ছে। তবে জেলা শহরের বাজারে প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় আম বিক্রি হলেও শত শত মণ আম এভাবে বিক্রি করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ আমই তাই বাগানে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে রুমার ফল ব্যবসায়ী মো. ইসহাক ও ইলিয়াস জানান, বড় বাজারগুলোতে রাংগোয়াই আম বর্তমানে মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু বাগান থেকে মণে ৫০০ টাকা দামে কিনলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে তাদের আর লাভ থাকে না। তিন টনের একটি ট্রাক আম আনতে পথে ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়। এ কারণে তারা বাগানিদের আরও কম দাম প্রস্তাব করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে বাগানিরা সেই কম দামে আম দিতে রাজি হন না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, স্বাদে হালকা টক হওয়ায় রাংগোয়াই আমের প্রতি ভোক্তাদের তেমন আকর্ষণ নেই। তবে মৌসুমের শেষ প্রান্তে অন্যান্য আমের সরবরাহ কমে গেলে এই আমের চাহিদা বাড়ে এবং দামও চড়ে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলতি মৌসুমের শেষেও রাংগোয়াই আমের দাম বাড়বে, ফলে চাষিরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।




