বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) জানিয়েছে, বিগত পাঁচ মাসে ৭ লাখের অধিক কৃষকের ৬০০ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা এসব ঋণ প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তৈরি করেছিল তীব্র আর্থিক ও মানসিক চাপ। বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে পণ্যের দরপতন এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক চাষিই নির্ধারিত সময়ে ঋণ শোধ করতে পারেননি। ফলে তাঁরা ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ পাওয়ার সুযোগও হারাচ্ছিলেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সেবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা মওকুফ হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন।

এখন পর্যন্ত কৃষি ব্যাংক দেশের ৪৮টি জেলায় ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ করেছে। ব্যাংকটির দাবি, দেশে বিতরণ করা মোট কৃষিঋণের ৬৩ শতাংশই এককভাবে প্রদান করে তারা। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘব করতেই মূলত এই উদ্যোগ। সরকার ঘোষিত মোট মওকুফকৃত ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনার আলোকে আমরা দ্রুততম সময়ে কৃষকদের তথ্য যাচাই করে ঋণ মওকুফের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। এতে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছেন। তাঁরা এখন পুনরায় ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসার এবং ভবিষ্যতে নতুন ঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বেশ কিছু কৃষিবান্ধব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ। উল্লেখ্য, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে (১৯৯১-১৯৯৬) পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ওই সময়ে ব্যাংকটি মোট ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বিতরণ করে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি। এই তথ্য কৃষি খাতে ব্যাংকটির সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।