আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে কে-পপ হিসেবে কী গণ্য হবে, বিশেষ করে পুরস্কারের ক্ষেত্রে, তা নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ক্যাটসে'র ব্যান্ড 'সেরা কে-পপ' বিভাগে ভিএমএ (এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস) মনোনয়ন পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। সংগীতদলটি তাদের গান সম্পূর্ণ ইংরেজিতে পরিবেশন করে এবং তারা কে-পপ শিল্পী হিসেবে পরিচিত নয়, তবুও তাদের এই মনোনয়ন শিল্পমাধ্যমে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি ঘোষিত ভিএমএ মনোনয়নের তালিকায় ক্যাটসে'র নাম দেখা যায় 'সেরা কে-পপ' ক্যাটাগরিতে, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ ক্যাটসে'র ব্যান্ডটি মূলত আমেরিকান গার্ল গ্রুপ, যাদের সংগীত সম্পূর্ণ ইংরেজিতে। কে-পপের মূল বৈশিষ্ট্য কোরীয় ভাষা ও কোরীয় সংস্কৃতির উপাদান, যা ক্যাটসে'র সংগীতে অনুপস্থিত। ফলে তাদের এই মনোনয়ন কে-পপের প্রকৃত সংজ্ঞা ও সীমানা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

এই মনোনয়নের খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু কোন শিল্পী বা ব্যান্ড আসলে কে-পপ ক্যাটাগরিতে পড়বে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে। ক্যাটসে'র ক্ষেত্রে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার অডিশন প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গঠিত হলেও, তাদের গান ও পরিবেশনা সম্পূর্ণ ইংরেজিতে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই মনোনয়ন পুরস্কার আয়োজকদের কে-পপ নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।

এদিকে, ভিএমএ আয়োজকরা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিলেও, ক্যাটসে'র ভক্তরা এই মনোনয়নে উচ্ছ্বসিত। তবে সমালোচকদের একাংশের মতে, এটি কে-পপের প্রকৃত শিল্পীদের প্রতি অন্যায়। কে-পপের মূল ধারার শিল্পীরা কোরীয় ভাষায় গান গেয়ে এবং কোরীয় সংস্কৃতির প্রচার করে এই সংগীত ধারাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু ইংরেজি গানের একটি ব্যান্ড সেই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেতে যাচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

এদিকে, ক্যাটসে'র সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এই মনোনয়নে সম্মানিত বোধ করছেন এবং এটি তাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তারা আশা করছেন, এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতের কাজে আরও প্রেরণা যোগাবে। তবে পুরস্কারটি আদৌ কে-পপ হিসেবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, নাকি বিতর্ক আরও উস্কে দেবে, তা সময়ই বলে দেবে।