প্রায় ছয় দশক ধরে জেডজেড টপের তালের ভিত তৈরি করে আসা ড্রামার ফ্র্যাংক বিয়ার্ড আর নেই। ৭৭ বছর বয়সে সোমবার টেক্সাসের রিচমন্ডে নিজের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি মারা যান। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সময় তিনি হসপিসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। বিয়ার্ডের মৃত্যুর কারণে উটাহ ও কলোরাডোতে সপ্তাহের নির্ধারিত কনসার্টগুলো বাতিল করতে হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে ব্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

১৯৬৯ সালে জেডজেড টপ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের বছরই তারা প্রথম মঞ্চ পরিবেশনা করে। দলটি ১৫টি স্টুডিও অ্যালবাম ও চারটি লাইভ অ্যালবাম প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গিমে অল ইওর লাভিন', স্লিপিং ব্যাগ ও ভিভা লাস ভেগাসের মতো জনপ্রিয় গান। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কণ্ঠশিল্পী বিলি গিবনস এবং প্রয়াত ডাস্টি হিল ছিলেন দলের মূল সদস্য। ২০২১ সালে হিলের মৃত্যুর পর এলউড ফ্রান্সিসকে বেসবাদক হিসেবে নিয়ে ব্যান্ডটি তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে।

বিয়ার্ডের প্রস্থান প্রসঙ্গে গিবনস বলেন, “আজ এলউড এবং আমি একজন অসাধারণ বন্ধু ও সহকর্মীকে হারালাম, আর বিশ্ব হারালো সবচেয়ে স্বাভাবিক উদ্ভাবনী ড্রামারদের একজন এবং টেক্সাসের একজন সত্যিকারের সন্তানকে।” তিনি আরও বলেন, “তার স্বাক্ষরযুক্ত বাজানো আমাদের শীর্ষে রাখার মূল চাবিকাঠি ছিল। ছয় দশক ধরে যে ব্যান্ডের অংশ ছিলেন তিনি, সেই ব্যান্ড তার ইচ্ছানুযায়ী এগিয়ে যাবে।”

২০০৪ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয় জেডজেড টপ। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে তারা নিয়মিত সফর করে আসছিল। বিয়ার্ডের মৃত্যুর পর সোমবার উটাহের সল্ট লেক সিটিতে এবং বুধবার কলোরাডোর কলোরাডো স্প্রিংসে নির্ধারিত কনসার্ট দুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে সপ্তাহান্তে অস্টিন সিটি লিমিটসে দুটি শো দিয়ে ব্যান্ডটি তাদের বর্তমান ‘দ্য বিগ ওয়ান ট্যুর’ পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ব্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ার্ডের প্রিয় ভেন্যুগুলোর একটি ছিল এটি, আর অস্টিন শহরটি ছিল তার কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো।

১৯৬৯ সালে জেডজেড টপের প্রথম একক ‘সল্ট লিক’ প্রকাশের পর বিয়ার্ড দলে যোগ দেন। পরে তিনি হিলকে বেসবাদক হিসেবে নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন। ড্রামে ছন্দের শক্তি হিসেবে তিনি লা গ্রেঞ্জ, টাশ ও চিপ সানগ্লাসেসের মতো হিট গানগুলোকে ভিত্তি দিয়েছেন। তার পদবি ‘বিয়ার্ড’ (দাড়ি) হলেও তিনি ‘দ্য ম্যান উইথ নো বিয়ার্ড’ নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ হিউস্টনের এই দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনি ব্যান্ডের পরিচিতি পাওয়া লম্বা দাড়ি রাখতেন না।

১৯৮৪ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত অ্যালবাম ‘এলিমিনেটর’-এ ছিল গিমে অল ইওর লাভিন, শার্প ড্রেসড ম্যান ও লেগস-এর মতো গান। অ্যালবামটি এক কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয় এবং ১৯৯৬ সালে রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা (আরআইএএ) থেকে ডায়মন্ড সার্টিফিকেশন পায়। একইসঙ্গে অ্যালবামটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়নও লাভ করে। ১৯৮৭ সালে ‘আফটারবার্নার’ অ্যালবামের জন্য গ্র্যামির আরেকটি মনোনয়ন পায় দলটি। ২০২১ সালে স্যাম ডানের ডকুমেন্টারি ‘দ্যাট লিটল ওল ব্যান্ড ফ্রম টেক্সাস’-এর জন্য সেরা মিউজিক ফিল্ম বিভাগে মনোনীত হয়েছিল তারা।