চার মাস পর মুক্তি পাবে ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’। কিন্তু এখনই সিনেমাটি যেন বিক্রি হয়ে যাওয়া কনসার্টের টিকিটের মতো আচরণ করছে। দর্শকদের মধ্যে এতটাই উন্মাদনা যে, আগাম বুকিং শুরু হতেই একাধিক প্রেক্ষাগৃহের শো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

মুক্তির এত আগে টিকিট বিক্রি হওয়া স্বাভাবিক নয়। সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমার টিকিট বিক্রি শুরু হয় মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’র ক্ষেত্রে সেই ধারা ভেঙে দিয়ে চার মাস আগেই টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। স্টুডিও ও পরিবেশকরা এই সাড়ায় উচ্ছ্বসিত, তবে কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন—এই অতিরিক্ত আগ্রহ কি সত্যিই সিনেমাটির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে?

একদিকে যেমন এটি প্রমাণ করে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রতি দর্শকদের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা আছে, অন্যদিকে তেমনই প্রি-সেলিংয়ের এই ধুম আগামী মাসগুলোতে বক্স অফিসে অপ্রত্যাশিত চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, অনেক দর্শক টিকিট কেটে রাখলেও মুক্তির সময় হলে উপস্থিত না হলে ‘নো-শো’র হার বেড়ে যেতে পারে। আবার অধিকাংশ শো আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেলে নতুন দর্শকদের জন্য টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসাকে প্রভাবিত করতে পারে।

‘ডিউন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুটি ছবি বক্স অফিসে ভালো করেছিল। তৃতীয় কিস্তির প্রত্যাশা সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রি-সেলিংয়ের এই উন্মাদনা কতটা টেকসই, তা নিয়ে সংশয়ও কম নয়। স্টুডিও কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই সাড়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তাদের মতে, দর্শকরা সিনেমাটিকে আগে থেকেই আলিঙ্গন করেছে—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

চার মাসের ব্যবধানে আরও অনেক সিনেমা মুক্তি পাবে, কিন্তু ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ যেন আলাদা উচ্চতায় অবস্থান করছে। প্রি-সেলিংয়ের এই রেকর্ড সংখ্যা ইতিহাসে থেকে যাবে কি না, তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকিট বিক্রির গতি ও দর্শক সন্তুষ্টির উপর। সিনেমাটি মুক্তি পেতে এখনও সময় আছে, তবে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে হল মালিকদেরও হাসি ফুটেছে। এখন দেখার পালা, এই আগাম সাফল্য শেষ পর্যন্ত কতটা টেকসই হয়।