রাজশাহী নগরের পদ্মা নদীতে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা ও ছেলের মরদেহ দুই দিন পর ভেসে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর স্থানীয়ভাবে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন রাজশাহী নগরের কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা কাওসার আলী (৪৫) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (১৮)। তাদের বাড়ি পদ্মা নদীর পাড়েই অবস্থিত। ছেলের মরদেহটি বাড়ির কাছেই শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায় ভেসে ওঠে। অন্যদিকে বাবার মরদেহটি ভাটিতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় পাওয়া যায়।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফরহাদ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট এলাকায় প্রথমে বাবার মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। এরপর দুপুর দুইটার দিকে শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায় ছেলের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরের বড়কুঠি এলাকায় কাওসার আলীর মালিকানাধীন একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। নৌকায় কাওসার আলী, তার স্ত্রী জাহেরা বেগম, ছেলে জিয়ারুল ইসলামসহ মোট সাতজন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই পদ্মা নদীর চর থেকে ঝাউগাছ ও খড় কেটে এনে বিক্রি করতেন। ওইদিনও তারা ঝাউগাছ কেটে বাড়ি ফিরছিলেন।

নৌকাডুবির পর সাঁতরে বেঁচে ফিরেছিলেন কাওসারের স্ত্রী জাহেরা বেগম। অন্য একটি নৌকা গিয়ে বাকি যাত্রীদেরও উদ্ধার করে। কিন্তু কাওসার ও তার ছেলে জিয়ারুলকে তখন আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর দুই দিন ধরে তাদের খোঁজ চলছিল।

আজ সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বাবার মরদেহ পাওয়ার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর ছেলের মরদেহও বাড়ির কাছেই ভেসে ওঠে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের আপত্তির কারণে মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করা হয়নি। পরে স্থানীয়ভাবে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।