বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলে ৫০ জন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
প্রতিনিধিদলে এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, মেটলাইফ, বোয়িং ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জ্বালানি, প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, বিমান নির্মাণ এবং ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলটির নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ এবং এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের জানান, কীভাবে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়, সেদিকেই আলোচনার মূল ফোকাস ছিল। তিনি আরও বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং তাদের অংশগ্রহণ আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
অন্যদিকে, কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ বলেন, আজ যেসব কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, সেগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর ভাষ্যমতে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার যে লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে, তা পূরণে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ ও কারিগরি জ্ঞানের মাধ্যমে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো বর্তমানে বেশ উৎসাহব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে, যা বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
এই বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এদের মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।




