জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নে এক বিশাল ড্রাগন বাগানের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তার নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন হেদায়েত হোসেন শিপলু। এক সময়ের পতিত জমিতে ২০২৪ সালে তিনি ড্রাগন চাষ শুরু করেন, যা বর্তমানে জেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক বাগানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর এই ৫০ বিঘর জমিতে লক্ষাধিক ড্রাগন গাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৭ বিঘা নিজস্ব এবং বাকি জমি ১৫ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া।
বাগানে থাই, বারী-১, ভিয়েতনাম, হলুদ ও পলেরা—এই পাঁচটি জাতের ড্রাগন চাষ করা হচ্ছে। চলতি বছরে প্রথমবারের মতো পুরোদমে ফলন এসেছে এবং প্রতি কেজি ড্রাগন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাগান থেকে সংগৃহীত ফলগুলো আকার ও গুণমান অনুযায়ী আলাদা করে প্যাকেটজাত করা হয় এবং ট্রাকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্থানীয় কর্মসংস্থান। প্রায় ৬০ জন শ্রমিক এই বাগানে কর্মরত আছেন, যাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী ও পুরুষ। শ্রমিক জুয়েল হোসেন এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য পারভীন টপ্প জানান, এই বাগানে সারা বছর নিয়মিত কাজ পাওয়ার ফলে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং পরিবারের খরচ চালানো সহজ হয়েছে।
বেসরকারি চাকরির নিরাপত্তা ত্যাগ করে কৃষিতে আসার পেছনে হেদায়েত হোসেন শিপলু জানান, চাকরির মাধ্যমে কেবল নিজের পরিবার চালানো সম্ভব হতো, কিন্তু কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছেন। তাঁর মতে, এই বাগান কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবিকার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে আধুনিক ফল চাষের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ থেকে প্রত্যাশিত কারিগরি সহযোগিতা সব সময় পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারি সহায়তা আরও বৃদ্ধি পেলে এই অঞ্চলে ড্রাগন চাষের পরিধি দ্রুত বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুর ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে এবং হেদায়েতের বাগানটি অন্যতম বড় বাণিজ্যিক উদ্যোগ। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই উচ্চমূল্যের ফলের চাষ জেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছে এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




