ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশীর (২৯) মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপিএটিসির মূল ফটকের সামনে রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিপিএটিসি যুব কল্যাণ সংঘ। আড়াইটা পর্যন্ত চলা এ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় ভাই মমদেল হোসেন বকশী, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন সিকদার, সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি সালমান শাহ ও সাগর হোসেন এবং বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোনারুল ইসলাম বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নিহতের বড় ভাই মমদেল হোসেন বকশী অভিযোগ করে বলেন, 'আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত, যারা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমি প্রত্যেকটা ব্যক্তির বিচার চাই। অতি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি করছি।'
ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, 'মোনারুলকে যারা হত্যা করেছে, তারা প্রশাসনের যেই অফিসার হোক, যেই সদস্য হোক, তাদের ফৌজদারি অপরাধ থেকে অব্যাহতির কোনো সুযোগ নেই। তাদের নামে মামলা করা হবে এবং আইন মোতাবেক তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করা যাবে না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবি করছি।'
প্রসঙ্গত, রংপুর জেলার পীরগাছার এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারে বিপিএটিসির আবাসিক ভবনের মোনারুলদের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছিলেন সাভার মডেল থানা ও রংপুরের পীরগাছা থানার একদল পুলিশ সদস্য। তাদের কাছে তথ্য ছিল নিখোঁজ কিশোরী ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছে। এ সময় ছাদ থেকে পড়ে মারা যান মোনারুল।
জানা যায়, মোনারুলের বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত। বাবার ফ্ল্যাটেই থাকতেন মোনারুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের দক্ষিণ হাতিবান্ধায়। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার ও মোনারুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে ছাত্রদল নেতারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ তুলেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




