বিশ্বকাপের উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের চেনা আসর শুরু হতে যাচ্ছে। সামনের মৌসুমের জন্য ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে আজ উঠে আসছে ইতালিয়ান সিরি আ’র চিত্র। আগামী ২২ আগস্ট শনিবার থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের। তবে তার আগে ইতালির ক্লাবগুলোর জন্য গত মৌসুমটা ছিল স্মরণীয় না হলেও কষ্টের। ইউরোপ সেরার আসরে কোনো দলই শেষ ষোলোয় উঠতে পারেনি। লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় নাপোলি, ইন্টার মিলান হারে বোডো/গ্লিমটের কাছে। আতালান্তা শেষ ষোলোয় বায়ার্ন মিউনিখের কাছে দুই লেগে ১০ গোল হজম করে ছিটকে যায়। জাতীয় দলের টানা বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি তো আছেই। সব মিলিয়ে ইতালির ফুটবলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে। সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার মঞ্চ হিসেবেই নতুন মৌসুমটা দেখছে দেশটি।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরি আ’তে শিরোপার লড়াইয়ে রোমাঞ্চ বেড়েছে। গত পাঁচ মৌসুমে তিনটি ভিন্ন দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় লিগের আকর্ষণ বেড়েছে। তবে এবার শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। সিমোনে ইনজাগির গড়ে যাওয়া শক্ত ভিতের উপর নির্ভর করে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান কিভু। দ্রুত পাল্টা আক্রমণের উপর ভর করে তারা এখনো ভয়ংকর। তবে গত মৌসুমের মতো এবারও দলের ক্লান্তি নিয়ে শঙ্কা আছে। দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় ৩০ পেরিয়ে গেছেন, যার মধ্যে হাকান চালহানোলু, হেনরিখ মেখিতারিয়ান ও পিওত্র জিয়েলিনস্কি উল্লেখযোগ্য। তাদের গতি কিছুটা কমেছে। দলবদলে তেমন একটা বড় কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এই শঙ্কা আরও প্রকট। সান সিরো ছেড়েছেন ডেনজেল ডামফ্রিস, স্টেফান দে ভ্রি, ফ্রান্সেসকো আচেরবি, মাত্তেও দারমিয়ান ও ইয়ান সোমারের মতো খেলোয়াড়রা। নতুন হিসেবে এসেছেন ২১ বছরের আলেকসান্দার স্তানকোভিচ এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে অভিজ্ঞ ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস। স্টোনসের অভিজ্ঞতা রক্ষণভাগকে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্টারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দেখা দিতে পারে নাপোলি। পাঁচ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার সুযোগ তাদের সামনে। দলের দায়িত্ব নিয়েছেন মাক্স আলেগ্রি। তবে এই নিয়োগ নিয়ে অনেকেই বিস্মিত, কারণ এসি মিলানে গত মৌসুমে তিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। দলবদলে নাপোলি এখন পর্যন্ত বেশ নিষ্ক্রিয়। রাসমুস হইলুন্দকে স্থায়ীভাবে দলে ভিড়ানো হলেও কেভিন ডি ব্রুইনার চোট কাটিয়ে ফেরা তাদের জন্য বড় স্বস্তি। আলেগ্রি ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিকে আরও খেলোয়াড় চাইবেন বলে ধারণা।

অন্যদিকে এসি মিলানে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন রুবেন আমোরিম। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ব্যর্থতার পর এটি তার জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। দলটিতে ক্লাব রেকর্ড ৭ কোটি ৪০ লাখ ইউরো খরচ করে পিএসজি থেকে গনসালো রামোসকে আনা হয়েছে। গত মৌসুমে এসি মিলানের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ, ৩৮ ম্যাচে তারা গোল করেছে মাত্র ৫৩টি। রামোস সেই দুর্বলতা কাটাতে পারবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। জুভেন্টাসও শিরোপার লড়াইয়ে থাকবে। কোচ লুচিয়ানো স্পাল্লেত্তির এটি প্রথম পূর্ণ মৌসুম। আগের মৌসুম থেকে তার কৌশলের ছাপ পাওয়া গেছে। শীর্ষ চারে না থাকায় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার চাপ এবার নেই জুভেন্টাস ও এসি মিলানের ওপর।

ইউরোপের ব্যস্ত সূচির সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে কোমো ও রোমা। তবে কোমোর উত্থান তাদেরকে আলাদা করে নজর কাড়বে। কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসকে ধরে রেখেছে তারা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে নিকো পাজ এবং আলভারো মোরাতার যোগে তাদের আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী হয়েছে। এবার তারা ডার্ক হর্স হয়ে উঠতে পারে। রোমা, আতালান্তা, লাৎসিও, বোলোনিয়া ও ফিওরেন্তিনার মতো দলগুলো ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করবে। তাদের লিগ জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সব মিলিয়ে হিসাব-নিকাশে ইন্টার মিলানই এগিয়ে। দলবদলে কিভুর দল হয়তো নিষ্ক্রিয় ছিল, তবু তাদের টপকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যে কোনো দলের জন্যই কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।