রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে সরকারের একটি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া ধীরে এগোবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে, যার পেছনে সাংবিধানিক কাঠামোয় আসন্ন পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মূলত সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও এখতিয়ার বৃদ্ধির যে আভাস দেওয়া হয়েছে, সেটিই এই নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এই বিষয়টি নিয়ে বিশদভাবে ভাবছেন। দলটির চিন্তাশীল অংশের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অবস্থান অনেকটাই আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক প্রকৃতির। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে সেই কাঠামো বদলে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা বহুলাংশে সম্প্রসারিত হতে পারে। এর স্বাভাবিক ফল হিসেবে, ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে যোগ্যতা ও বিবেচনার মাপকাঠিও বর্তমানের চেয়ে ভিন্নতর হবে বলে তারা মত দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হবেন—এ নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল থাকলেও সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ার পক্ষপাতী নয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ হবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, রাষ্ট্রপতি পদটি সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত এখন স্থগিত রেখে একটি কৌশলী অপেক্ষার নীতি নিয়েছে প্রশাসন। সংশোধনের খসড়া ও তার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নেই বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।