সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে রাতভর তিন থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সন্ধ্যার পর। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা মাঠে পৌঁছান। কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার পাঁচ থেকে ১০ মিনিট আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। জেনারেটরের মাধ্যমে অপর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকেরা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে রাত ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। চারদিক সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করলে অনেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানায় যান এবং মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতা ও সাধারণ জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।




