২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গোল ও ট্রফির পাশাপাশি আরও একটি বিষয় সমানভাবে আলোচিত হয়েছে—ফ্যাশন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়, কোচ ও তারকারা যে সব স্টাইল উপস্থাপন করেছেন, তা ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে এক বৈশ্বিক ফ্যাশন শো-তে পরিণত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ফ্যাশন মহল জুড়ে সেগুলো এখনো আলোচিত হচ্ছে। নিচে বিশ্বকাপের এমন ১১টি স্মরণীয় স্টাইল মুহূর্ত তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই উল্লেখযোগ্য ছিল ফ্রান্সের জার্সিতে নাইকি ও জাকম্যুসের যৌথ নকশা, যেখানে ছোট্ট একটি ভিনটেজ কলার যুক্ত করা হয়। এই সাধারণ কলারটি পুরো জার্সিকে অন্যরকম মাত্রা দিয়েছে। পাশাপাশি উজ্জ্বল গোলাপি বুটের চলও ছিল চোখে পড়ার মতো। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা ও নিউ ব্যালান্সের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো এই রঙকে বেছে নেয়, যা মাঠে নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করে।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ফুটবলাররা ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজ দেশের ডিজাইনার অ্যালভিন ম্যাকের তৈরি কালো স্যুট পরে বিমানবন্দরে হাজির হন। চিতাবাঘের নকশা, সিলভার ব্রোচ ও তারকা-আকৃতির ব্যাগ আফ্রিকান ঐতিহ্যের গর্বকে ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক মাদুকা ওকোয়ে ফুটবল থেকে ফ্যাশন আইকনে রূপ নিয়ে প্যারিস ফ্যাশন উইকের প্রথম সারিতে জায়গা করে নেন।
ফরাসি তারকা মাইকেল ওলিসের পাদুকাকে ঘিরেও ছিল ব্যাপক আলোচনা। তিনি বহু আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া নাইকির হাইপারভেনম বুট পরে খেলেন এবং শিল্পীদের দিয়ে তা জার্সির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন ব্যক্তিগত পছন্দ ব্র্যান্ডের চেয়েও বড়। হলিউড তারকা টিমোথি শ্যালামে ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ম্যাচে ১৯৯৬-১৯৯৮ সালের অ্যাডিডাস ফ্রান্স ট্র্যাক জ্যাকেট, ওভাল সানগ্লাস ও সিলভার স্নিকার্স পরে দেখান পুরোনো ফ্যাশনও নতুন করে ট্রেন্ড তৈরি করতে পারে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা নেভি ব্লু অ্যাওয়ে জার্সি পরে নামে, যা ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালের জয়ের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। ফ্যাশনের ভাষায় এটি ‘মেথড ড্রেসিং’, যেখানে পোশাক গল্প বলার মাধ্যম হয়ে ওঠে। এছাড়া বিশ্বকাপে বিলাসবহুল ব্যাগের দখল ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্লিং হালান্ডের ডলচে অ্যান্ড গাবানা টোট, কিলিয়ান এমবাপ্পের ডিওর টোট, জুড বেলিংহ্যামের লুই ভিতোঁ কিপঅল, লিওনেল মেসির আরমেস ব্যাগ, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাস্টম ক্রোম হার্টস ডাফল ও লামিন ইয়ামালের শ্যানেল টোট মাঠের বাইরের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়ে ওঠে।
ফুটবলের সাবেক স্টাইল আইকন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম দুই দশক পরও তার মার্জিত উপস্থিতি দিয়ে জানান দেন সত্যিকারের স্টাইল কখনও পুরোনো হয় না। ইংল্যান্ড দলের অফ-ফিল্ড পোশাকে নাইকি ও প্যালেসের যৌথ নকশা তরুণদের মধ্যে আলোড়ন ফেলে। পাশাপাশি পুমার গোলরক্ষকদের জার্সি মার্কিন ডিজাইনার সালেহে বেমবুরির নকশায় ব্যক্তিত্ব পায়। বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার পরও স্টাইলের জয় অব্যাহত—সেটাই প্রমাণ করল এবারের আসর।


