প্রিয় দিদিভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক ছোট বোন একটি মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছে, যেখানে তার মনের অজানা অনেক কথাই ধরা পড়েছে। লেখিকা জানিয়েছেন, এই লেখাটি প্রকাশ না পেলে তিনি খুব কষ্ট পেতেন, কারণ পরিবারে তার মনের গোপন কথাগুলো শোনার মতো কেউ নেই। মা-বাবার কঠোর আচরণে যখনই মন ভেঙে যায়, একমাত্র দিদিই তাকে এমনভাবে সান্ত্বনা দেন যে, তা তার কাছে স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে আসে।
তিনি স্মরণ করেন, দিদি তাকে জীবনের প্রথম উপহারটি দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি অত্যন্ত কিউট মৌঁছি কলম। বর্তমানে কলমটির মুখ হারিয়ে গেলেও সম্পূর্ণ উপহারটি এখনো তার কাছে রয়ে গেছে। দিদির মুখে শোনা গিয়েছিল হাতে টাকা ছিল বলে তিনি সেটি কিনে এনেছেন, কিন্তু লেখিকার উপলব্ধি যে, ইকবাল রোড থেকে শ্যামলী পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এবং নিজের জন্য না জমিয়ে এই উপহার কিনতে তার দিদির কত ত্যাগ ও কষ্ট হয়েছিল। এই উপহারটিকে তিনি তার জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গণ্য করি।
নিজের কৃত কর্মের জন্য আজ তিনি গভীর অনুতপ্ত। দিদির সাথে বাজে ঝগড়া, মারামারি ও বিশ্বাস রাখতে না পারার কথা স্বীকার করে লেখিকা বলেন, “তখন আমি ভাবতাম দিদিভাই আমাকে পছন্দ করে না। কিন্তু এখন বুঝি, আমি যা আচরণ করেছি তাতে তার মতো ব্যবহারই ঠিক ছিল।” তবে এই অনুশোচনার পাশাপাশি দিদির সাফল্যে তাঁর অপরিসীম গর্বের কথাও এসেছে চিঠিতে। যে বয়সে মানুষ ঘরে অলস সময় কাটায়, সেই বয়সে দিদি একটি আস্ত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কুলে প্রথম কর্মশালার আয়োজনে দিদি যখন তার নাম বলেছিলেন, সেটি ছিল তার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।
চিঠিতে তিনি দিদির ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে উজ্জ্বল প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে দিদি যখন তাঁর সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করবেন, তখন তার চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না। তিনি দিদির এইচএসসি পরীক্ষার জন্য আন্তরিকভাবে অনেক শুভকামনা জানিয়ে এবং ভালো ফলের উপর গভীর আস্থা রেখে চিঠিটি শেষ করেন। লেখিকাটি ঢাকার ন্যাশনাল ওয়াইডব্লিউসিএ গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থী।




