বর্তমান যুগে প্রায় সব স্মার্টফোনেই গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস নামের একটি প্রযুক্তি সংযুক্ত আছে। এই প্রযুক্তির কল্যাণে একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান দ্রুত নির্ণয় করা যায়। গাড়ি চালানোর সময় সঠিক পথের দিকনির্দেশনা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় সময় অনুমান করাসহ বিভিন্ন কাজ সহজ হয়ে উঠেছে জিপিএসের কারণে। প্রযুক্তিটি বহু বছর ধরে প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন কেন্দ্রিক নানা ধরনের পরিষেবার প্রসারের ফলে এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জিপিএস মূলত একটি স্যাটেলাইটনির্ভর হাইপারবোলিক নেভিগেশন ব্যবস্থা। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান বহু সংখ্যক কৃত্রিম উপগ্রহের একীভূত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সিস্টেমটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এখন নিজেদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পেতে এই জিপিএসের ওপর ভরসা রাখেন। মুলত, স্মার্টফোনের অভ্যন্তরে স্থাপিত জিপিএস চিপগুলো মহাকাশে অবস্থিত উপগ্রহগুলো থেকে ক্রমাগতভাবে সংকেত সংগ্রহ করে চলে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফলস্বরূপ, স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা নেভিগেশন সমর্থিত গাড়ির ডিভাইসগুলো মুহূর্তের মধ্যেই ব্যবহারকারীর সামনে তাদের অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে পারে।

অবস্থান নির্ণয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, ফোনের জিপিএস চিপ স্যাটেলাইট থেকে আসা রেডিও সংকেতের ভ্রমণকাল এবং উক্ত উপগ্রহটির দূরত্ব মেপে দেখে। পরবর্তী সময়ে, একাধিক স্যাটেলাইটের তথ্যকে একসাথে সমন্বিত করে ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ গণনা করা হয়। আর এভাবেই অত্যন্ত নিখুতভাবে অবস্থানের স্থানাঙ্ক জানা সম্ভব হয়।