নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে রবিবার এক নতুন স্মারক উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০১১ সালের ২২ জুলাই দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৭৭ জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মারকটি নির্মিত। সেদিন নব্য-নাৎসি আন্ডারস ব্রেইভিক প্রথমে ওসলোতে একটি গাড়িবোমা হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যা করে। এরপর তিনি উতোয়া দ্বীপে যুবক্যাম্পে গুলি চালিয়ে আরও ৬৯ জনকে হত্যা করেন, যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। এছাড়াও শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে স্মারকটিতে।

শিল্পকর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আপহোল্ডিং’। এটি ওসলোর সংস্কারকৃত সরকারি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ২০১১ সালের বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল তার খুব কাছেই। শিল্পী মাতিয়াস ফাল্ডবাকেন জানিয়েছেন, উতোয়া দ্বীপে তিনি একটি পাখি দেখেছিলেন এবং সেই পাখিটিকেই স্মারকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নীল ইস্পাতের ফ্রেমের ওপর ১২ মিটার উঁচু পাথরের মোজাইকে তৈরি পাখিটি একটি ছোট জলচর পাখি, যার পাশে খড় ও ডালপালা জলের প্রতিফলনে দেখা যায়। শিল্পীর মতে, এই কাজের দ্বৈত উদ্দেশ্য—নিহতদের স্মরণ এবং উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের যুবরাজ হাকন এবং সরকারি কর্মকর্তারা। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও নিহতদের স্বজনরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বলা হয়েছে, নিহত ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা গোষ্ঠীর প্রধান মেরেটে স্ট্যামনেসহেগেন বলেন, ‘২০১১ সালের ২২ জুলাই শুধু ব্যক্তিদের ওপর নয়, বরং আমাদের গণতন্ত্রের ওপরও একটি নৃশংস আক্রমণ ছিল।’ যুবরাজ হাকন নতুন ২২ জুলাই সেন্টারও পরিদর্শন করেন, যা ওই হামলার স্মৃতিতে নরওয়ের জাতীয় স্মারক ও শিক্ষাকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ব্রেইভিককে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা নরওয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি। তবে তাকে যতদিন সমাজের জন্য হুমকি মনে করা হবে, ততদিন এই দণ্ড বাড়ানো যাবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ব্রেইভিক তার সাজার শর্ত নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি তার মানবাধিকার মামলায় আংশিক জয় পেলেও পরের বছর তা বাতিল হয়। ২০২২ সালে প্যারোলের আবেদনে ব্যর্থ হন, কারণ আদালত মনে করে তিনি পরিবর্তিত হননি এবং সমাজের জন্য ঝুঁকি হয়ে আছেন। ২০২৪ সালে তিনি বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেও সফল হননি।