জেফরি এপস্টাইনের নিউ মেক্সিকোর খামারবাড়ি সংক্রান্ত নথিপত্র 'আটকে রাখার' দায়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে অঙ্গরাজ্যটি। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বুধবার এক মামলায় অভিযোগ করেন, ফেডারেল সংস্থাটি তাদের তদন্তে 'বাধা' সৃষ্টি করছে।
তোরেজের কার্যালয়ের দাবি, এপস্টাইনের জোরো র্যাঞ্চ সম্পর্কে প্রকাশিত নথিপত্রে ১৩ হাজারেরও বেশি বার এবং নিউ মেক্সিকো রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক বার। পাশাপাশি আছে 'প্রলুব্ধকরণ, পাচার, যৌন নির্যাতন ও ওই স্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অসদাচরণের' প্রমাণ। বিচার বিভাগ ২০১৯ সালে এক সমঝোতায় জানিয়েছিল, তাদের তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিউ মেক্সিকো যদি রাজ্যের স্তরের তদন্ত স্থগিত রাখে, তবে তারা সহযোগিতা করবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে মামলায়।
রাজ্যের অভিশংসকদের বক্তব্য, বর্তমান ও পূর্ববর্তী উভয় দলীয় প্রশাসনের অধীনেই তথ্য বিনিময়ের যে স্বাভাবিক রীতি ছিল, তা থেকে তারা এখন ধারাবাহিক প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছেন। নিউ মেক্সিকো চাওয়া তথ্যের মধ্যে আছে একটি বিশেষ নথি, যেখানে 'দুই নারী ভুক্তভোগীর মৃতদেহ জোরো র্যাঞ্চের আশপাশের ভূমিতে পুঁতে ফেলার' অভিযোগ ও অন্যান্য রেকর্ড রয়েছে, যাতে এপস্টাইনের 'ঘনিষ্ঠ চক্র, জোরো র্যাঞ্চে আসা অতিথি ও কর্মচারীদের' উল্লেখ আছে। যাদের কেউ কেউ অভিযুক্ত নির্যাতনে অংশগ্রহণ বা আশপাশের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ বিবৃতি দিয়ে বলেন, 'এই বিলম্ব আমাদের ফৌজদারি তদন্তকে সক্রিয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এপস্টোর্যানের ভুক্তভোগীদের প্রাপ্য বিচারকে বিলম্বিত করছে।' তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহের জন্য 'বারংবার, নথিভুক্ত, আন্তরিক প্রচেষ্টা' করেছেন তিনি। গত ১৪ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কাগজপত্র না দিলে 'সব আইনি প্রতিকার' অবলম্বন করবে তার অফিস। বর্তমানে আদালতের কাছে রায় চাওয়া হচ্ছে যে ডিওজে-এর তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি বেআইনি ঘোষণা করা হোক এবং সংস্থাটিকে অপ্রকাশিত নথিতে প্রবেশাধিকারের নির্দেশ দেওয়া হোক।
মামলাটি এমন এক মুহূর্তে দায়ের হলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্ল্যাঞ্চকে স্থায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল করতে সিনেটের অনুমোদন চাইছেন। মঙ্গলবার সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটি ১২-১০ পার্টি লাইন ভোটে তার মনোনয়ন অগ্রসর করেছে। তবে পূর্ণ সিনেটে তার নিশ্চিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ কমপক্ষে একজন রিপাবলিকান, সিনেটর সুসান কলিন্স, তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং আরও দুজন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। সমালোচনার মুখে ব্ল্যাঞ্চ গত মাসে এপস্টাইনের ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সিনেটর থম টিলিসের জোরাজুরিতে তিনি এই বৈঠক করেন, যা ছিল জুডিশিয়ারি কমিটিতে তার ভোট পাওয়ার শর্ত।
ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টাইনের নথি প্রকাশের ব্যাপারেচলমান সমালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প এই নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরবর্তীতে সেগুলো প্রকাশ করেনি। কংগ্রেস যে আইন পাস করে এবং ট্রাম্প স্বাক্ষর করে যার মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক হয়, তার প্রাথমিক সময়সীমা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিচার বিভাগ। প্রকাশিত অনেক নথিতে ব্যাপক সংশোধন করা হয় অথবা কিছু ভুক্তভোগীর তথ্য অসংশোধিত থেকে যায়। সংস্থাটি এপস্টাইনের সাথে জড়িত আর কোনো বিচারকার্য পরিচালনার ইঙ্গিতও দেয়নি। ব্ল্যাঞ্চ তার নিশ্চিতি শুনানিতে সংস্থার কার্যক্রম প্রতিরক্ষা করে বলেছেন, কংগ্রেসের নির্ধারিত সময়ে ফাইল প্রকাশ একটি 'দুরূহ কাজ' ছিল। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের কিছু তথ্য সংশোধনে ব্যর্থতার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন, 'আমাদের কোনো ভুল করাই উচিত হয়নি।'



