শীতল উত্তরীয় বাতাসের প্রতিটি স্পর্শ যেন এক অদৃশ্য বার্তাবহ। এই হিমেল পরশ বারবার ফিরিয়ে আনে সেই বিশেষ মুখটির কথা, যার জন্য আকুল প্রতীক্ষায় কেটে গেছে চারটি বসন্ত। মনে দৃঢ় ধারণা জন্মেছে যে এই বুঝি ফিরে এলেন তিনি, কিন্তু এই মিথ্যা ভরসাতেই প্রহর গুণে চলতে হয়েছে এতগুলো বছর। এখন প্রশ্ন জাগে, আর কতদিন চলবে এই তিক্ত অপেক্ষা?
চোখ বন্ধ করলেই মানসপটে ভেসে ওঠে একে একে একসঙ্গে কাটানো দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি। পুরনো সেই সব স্মৃতি যেন মনের কোণে জমা হয়ে থাকা বিষাদের জলরঙে আঁকা ছবি। কিন্তু এই সমস্ত বেদনার মধ্যেও মন আশাশূন্য হয়ে পড়েনি। এখনও মনে গভীর বিশ্বাস বাস করে যে, কোনো এক অনাগত মঙ্গলময় সকালে হয়তো আবার দুইজন মুখোমুখি হবে। সেদিন আর কোনো অভিমানের অস্তিত্ব থাকবে না।
ভবিষ্যতের সেই প্রত্যাশিত দিনটিতে উত্তুরে হাওয়া আর শীতল পরশ বা বিষাদের ইঙ্গিত নিয়ে ধাবিত হবে না। বরং তখন সেই সমীরণ প্রিয়জনের আগমনের সুসংবাদ হয়ে এসে স্পর্শ করবে অপেক্ষারত হৃদয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতিরই একটি অংশ হয়ে সেদিন আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেবে এই বাতাস।




