বাংলাদেশের গ্যাস খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হতে চলেছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি নতুন গ্যাস কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবিপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের আওতায় ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সেনবাগে হলেও ভূগর্ভস্থ একই গ্যাস ফিল্ড কাঠামোর অংশ হওয়ায় বাপেক্সের নিয়মানুযায়ী এর নাম ‘সুন্দরপুর-৪’ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, কূপটির গভীরতা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ মিটার। মাটির প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাসের স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই মাসের মধ্যে মূল খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে পুরোদমে খননকাজ চলছে। সফল হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে। উল্লেখ্য, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। নতুন এই কূপ সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ আরও জানান, কূপটির কারিগরি পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। খনন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধরা গভীরতা ১ হাজার ৬০০ মিটার হলেও প্রয়োজনে তা বাড়ানো হতে পারে। তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরতায় গ্যাস স্তর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাপেক্সের দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মীরা কাজ করছেন।
এদিকে, নোয়াখালীর স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা আশা করছেন, কূপটি সফল হলে এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাপেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনন কাজে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে।
সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের আগের তিনটি কূপ থেকে ইতিমধ্যে গ্যাস উত্তোলন চলছে। নতুন কূপটি সফল হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে। জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস যোগ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও কমবে। সরকারের জ্বালানি খাতের লক্ষ্য পূরণে এই কূপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খননকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাপেক্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে। দুই মাসের মধ্যে খনন শেষ হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উৎপাদন শুরু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



